বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে আবদুল্লাহ জানান, তাঁর বাবার ইচ্ছা ছিল, ছেলে প্রকৌশলী হবেন। এদিকে আবদুল্লাহর মায়ের স্বপ্ন, ছেলেকে চিকিৎসক বানাবেন। অবশেষে মায়ের স্বপ্নই পূরণ হতে যাচ্ছে। আবদুল্লাহর বাবা মইদুল ইসলাম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আবদুল্লাহর মাইগ্রেনের ব্যথা। চিকিৎসক হতে হলে প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়। এমবিবিএস পাস করার পর উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার জন্য আরও পড়তে হয়। এ জন্য চেয়েছিলাম, ছেলে প্রকৌশলী হোক। কিন্তু আমার ইচ্ছা পূরণ না হলেও মা ও ছেলের ইচ্ছা পূরণ হওয়ায় আমি দারুণ খুশি।’

চিকিৎসা পেশার প্রতি আবদুল্লাহরও বেশ আগ্রহ। আবদুল্লাহ বলেন, আত্মীয়স্বজনদের প্রয়োজনে প্রায়ই রাজশাহী মেডিকেল কলেজে যেতে হয়। তবে হাসপাতালে গেলেই গরিব রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অসহায়ত্ব চোখে পড়ত। তখন থেকেই মনে মনে ভাবতেন, চিকিৎসক হতে পারলেই এসব মানুষের উপকার করা যাবে। মাত্র ১ নম্বরের জন্য দ্বিতীয় হয়েছেন, তবে এতে তাঁর কোনো আফসোস নেই। সবচেয়ে কম নম্বর পেয়েও মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলে তিনি খুশি থাকতেন। তাঁর কাছে চিকিৎসক হওয়াটাই আসল।

আবদুল্লাহর বাবা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামোশংকরবাটি ভবানীপুর জামে মসজিদের ইমাম। রাজারামপুর ব্যাঙডুবি মহল্লায় গিয়ে দেখা যায়, এক কাঠা জমিতে ইটের গাঁথুনির দেয়ালের ওপর টিনের চালার দুটি ঘর। অনেক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই আবদুল্লাহ এ পর্যন্ত এসেছেন। তাঁর বাবার কথায় সেই কথার আঁচ পাওয়া গেল।

মইদুল ইসলাম বলেন, ‘মুখ ফুটে কাউকে সাহায্যের কথা বলতে পারিনি। মাঝেমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অবসরপ্রাপ্ত উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ স্যার আমার ছেলের জন্য সহযোগিতা করেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজে লেখাপড়া ব্যয়বহুল। এ জন্য চিন্তায় আছি। কোনো শিক্ষা সহায়তা বা বৃত্তি পেলে আমাদের জন্য ভালো হয়।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, আবদুল্লাহর বাবা মইদুল ইসলাম ইমামতির পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক ছিলেন। তবে এখানে বেতন খুব কম। সংসার চালিয়ে ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাতে মইদুল হিমশিম খেতেন। এ জন্য সরকারি কোনো অনুদান এলে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মইদুলকেই ওই অনুদান দেওয়া চেষ্টা করা হয়েছে। আবদুল্লাহ খুব মেধাবী ও ভালো ছেলে। একটু সহযোগিতা পেলে আবদুল্লাহ খুব ভালো চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন