বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাদেকুল ইসলামের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পশ্চিম বামনাইল গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মো. জার্সিস আলী। তাঁকে নিয়ে ‘শরবত বিক্রির ফাঁকে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি’ শিরোনামে গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম আলো অনলাইন সংস্করণে খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি পুনাকের সভানেত্রী জীশান মীর্জার নজরে আসে। তাঁর আন্তরিক উদ্যোগে রাজশাহী মহানগর পুলিশ সাদেকুলের বিষয়ে খোঁজখবর শুরু করে।

রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ এই প্রতিবেদকের সহায়তা নিয়ে সাদেকুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর পুনাকের সভানেত্রী জীশান মীর্জা মেধাবী শিক্ষার্থী সাদেকুল ইসলামকে সহায়তা করার উদ্যোগ নেন। ওই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই আজ রোববার তাঁকে হেলমেটসহ বাইসাইকেল ও মুঠোফোন উপহার দেওয়া হয়েছে।

রোববার সকাল ১০টায় এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়্যালি যুক্ত হয়ে পুনাকের সভানেত্রী জীশান মীর্জা বলেন, ‘সাদেকুল ইসলাম বয়সে ছোট হলেও তাকে আমি শ্রদ্ধা জানাই। সে সততার সঙ্গে পরিশ্রম করে নিজে পড়াশোনার করছে, আবার মা–বাবাকেও দেখাশোনা করছে। লেখাপড়া শিখে সে মা–বাবার স্বপ্ন পূরণ করবে। সাদেকুল একজন সফল মানুষ হবে। তখন রাজশাহীর মানুষ তাকেই মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে দেখবে। সে বলেছে, শীতের সময় শরবতের ব্যবসা চলবে না। এই জন্য ফুডপান্ডায় কাজ নিয়েছে। সে এই সাইকেল চালিয়ে কাজটা করবে। ফোনের মাধ্যমে ফরমাশটা নিতে পারবে। ক্লাস করতেও যেতে পারবে। এ জন্য তাকে এই সামান্য উপহার দেওয়া হলো।’

এসব উপহার পেয়ে ভীষণ খুশি সাদেকুল ইসলাম। তিনি পুনাকের সভানেত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ উপহার তাঁর কাছে মোটেই সামান্য নয়। এই মোবাইলে তিনি অনলাইনে ক্লাসও করতে পারবেন। সাইকেল চালিয়ে চাকরির পাশাপাশি ক্লাস করতেও যেতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মো. সুজায়েত ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. মজিদ আলী, উপপুলিশ কমিশনার (সদর) মো. রশীদুল হাসান, বিশেষ পুলিশ সুপার এ এফ এম আনজুমান কালাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সাদেকুলের মা মরিয়ম বেগম ও তাঁর শিক্ষক সালাহ উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন