default-image

মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়ে কোনো প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়ে অনশনে দাঁড়িয়েছেন এক মা। রোববার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে তিনি প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অনশনে দাঁড়ান। পরে পুলিশ এসে তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে গিয়ে মামলা নেওয়ার ব্যবস্থা করে।
ওই নারী বলেন, গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁর পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ধর্ষণ করেন। এ ঘটনার আগে ১০ অক্টোবর থেকেই তিনি (ওই নারী) ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সুযোগে ১১ অক্টোবর সকাল ৬টার দিকে রফিকুল ওই মেয়েকে ডেকে বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। মেয়ে চিৎকার করলে ওই ব্যক্তি এ ঘটনার কথা কাউকে না বলতে হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন। সেদিন ব্যর্থ হয়ে পরদিন ১২ অক্টোবর ওই মেয়েকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন রফিকুল। পুরো ঘটনাটি তাঁর মেয়ে এক স্বজনের কাছে খুলে বলে। পরে ১৮ অক্টোবর তিনি ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে মেয়ে ও স্বজনের কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যান। ওই নারী বলেন, ‘এ সময় বেলাল হোসেন নামের এক এসআই আমাকে গালিগালাজ করে বের হয়ে যেতে বলেন। আমি বারবার বোঝাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। সেদিন ওই এসআইয়ের টেবিলে অভিযোগ রেখে চলে আসি।’

বিজ্ঞাপন

ওই নারী আরও জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে অনেকের কাছে পরামর্শ চেয়েছেন। সবাই তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করতে পরামর্শ দেন। এরপর তিনি আর থানায় যেতে আগ্রহ বোধ করেননি। যেখানে অভিযোগ দিতে গিয়ে বকা খেয়েছেন, সেখানে গেলে কী হবে? তাই আজ রোববার তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর মেয়ের ধর্ষণের ঘটনার বিচার চেয়ে অনশনে দাঁড়ান। পরে শ্রীপুর থানা-পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে থানায় নিয়ে যায়। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন তাঁর কথা শুনে মামলা নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এমনকি দুপুরের খাবারদাবারের ব্যবস্থাও করেন।
অনশনে দাঁড়ানো ওই নারী দাবি করেন, যে এসআই তাঁকে সেদিন বকাঝকা করেছিলেন, তিনি থানা থেকে বদলি হয়ে গেছেন বলে জেনেছেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ওসি খন্দকার ইমাম হোসেন জানান, বেলাল হোসেন নামের কোনো কর্মকর্তা তাঁদের থানায় ছিলেন না। বরং একজন বেলাল হোসেন মাওনা পুলিশ ফাঁড়িতে ছিলেন। তিনি প্রমোশন পেয়ে বদলি হয়েছেন। শ্রীপুর থানায় ওই নারীকে কেউ বকাঝকা করেননি। ওই নারীকে থানায় এনে মামলা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এসআই বেলাল প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর কাছে ওই নারী অভিযোগ নিয়ে যাননি। তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের মতো অভিযোগের বিষয়ে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বকাঝকা করতে পারেন না। বরং এ বিষয়ে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথা।

মন্তব্য পড়ুন 0