মেরামতকাজে যান চলাচলে ধীরগতি, ভোগান্তি

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাজীপুরের শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামের সামনে চলছে রাস্তা মেরামতের কাজ। কাজ করতে গিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে সড়কের অধিকাংশ জায়গা। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।আল-আমিন

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাজীপুরের শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামের সামনে চলছে রাস্তা মেরামতের কাজ। কাজ করতে গিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে সড়কের অধিকাংশ জায়গা। এতে যান চলাচল করছে খুব ধীরগতিতে। এ ছাড়া সড়কের যত্রতত্র খানাখন্দে তৈরি হচ্ছে যানজট। ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষ।

গাজীপুর ও ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের ভাষ্যমতে, আজ সোমবার সকাল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু এর মাঝে সকাল ৯টার দিক থেকে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামের সামনে রাস্তার এক পাশ বন্ধ করে শুরু হয় মেরামতের কাজ। এতে এক লেনে গাড়ি চলাচল করতে গিয়ে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। এর প্রভাবে যানজট তৈরি হয়ে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে রাজধানী ঢাকা ও তার আশপাশের সড়কে।

সকাল থেকে মহাসড়কের এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুরা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো সড়কে যান চলাচল করছে খুবই ধীরগতিতে। এর মাঝে ঢাকা থেকে যানগুলো আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত কোনোরকম ঠেলেঠুলে আসতে পারলেও টঙ্গী থেকে পড়ছে যানজটে। সড়কের গর্ত আর খানাখন্দে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এর মাঝে এক পাশ বন্ধ করে কাজ করায় বেড়েছে আরও ভোগান্তি। অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেই একেকটি যানবাহনকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের সামনে বহু শ্রমিকের ভিড়। এখানে বড় গর্ত থাকায় তা মেরামতে বিছানো হচ্ছে ইট। কাজের সুবিধার্থে যান চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে এক লেনে। এতে কোনো যানবাহনচালক চাইলেও দ্রুতগতিতে যেতে পারছেন না। আর এসব কারণে ধীরগতিতে চলতে গিয়ে দেখা দিয়েছে যানজটের।

আরও দেখা যায়, সড়কটির আবদুল্লাহপুর থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত পুরো সড়ক কাটা। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা টঙ্গী বাজার থেকে গাজীপুরা পর্যন্ত। এটুকু সড়কের পুরোটাজুড়ে গর্ত, ভাঙা। এসব গর্ত বা ভাঙা জায়গায় জমে আছে পানি। গর্তে পড়ার ভয়ে কোনো যানবাহন এগোতে পারছে না। ফলে যানবাহনের জট তৈরি হয়ে ঠেকেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়।

একটি পিকআপ ভ্যানের চালক মো. আবদুল কাদের। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রাজধানীর মহাখালী থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে যানজটে আটকে ছিলেন টঙ্গী বাজার এলাকায়। কথা হলে তিনি বলেন, ‘রাস্তায় নামার পর থেকেই যানজট। কোনোরকম ঠেলেঠুলে এটুক আইছি। বাকি রাস্তা ক্যামনে যামু, বুঝতে পারছি না।’

আবদুল্লাহপুর ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পরিদর্শক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। পরে গাজীপুরের টঙ্গীতে মেরামতের কাজ শুরু হওয়ায় দেখা দেয় ধীরগতি। এর মাঝে থেমে থেমেই যানজট দেখা দিচ্ছে। আমরা বিকল্প পথে কিছু গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করছি। কিন্তু তাতেও চাপ কমছে না।’

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, এক লেনে গাড়ি চলার কারণে মূলত যান চলাচলে বেশি ধীরগতি দেখা দিয়েছে। পুলিশ সদস্যরা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন।