default-image

স্বয়ম্ভুনাথ মন্দিরের ঠিক ৫০ সিঁড়ি নিচে সমতল জায়গায় কাপড় দিয়ে প্যান্ডেল বানানো হয়েছে। সেখানে সকাল থেকে চলে খিচুড়ি রান্না। দুপুর হতে না হতেই প্যান্ডেলের বাইরে লাইন ধরতে শুরু করেন মেলায় আসা ভক্তরা। পাহাড় বেয়ে ১ হাজার ২০০ ফুট ওপরে উঠে চন্দ্রনাথধাম পরিক্রমা ও পূজার পর পুণ্যার্থীরা ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত ও পিপাসায় কাতর হয়ে পড়েন। এরপর তাঁরা খিচুড়ি পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান। প্রসাদ হিসেবে সেই খিচুড়ি খেয়ে ভক্তরা অনুভব করেন পরম তৃপ্তি। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে শিবচতুর্দশী মেলায় এমন পরিস্থিতি দেখা যায়। প্রতিবছরের মতো এবার তিন দিনব্যাপী চলছে শিবচতুর্দশী মেলা।

এক লাইনে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ এবং অপর লাইনে পুরুষদের খিচুড়ি নিতে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। খিচুড়ি দেওয়া শুরু হওয়ামাত্র তা নিতে ঠেলাঠেলি পড়ে যায়। মানুষের ভিড় সামলাতে মুশকিলে পড়েন সংশ্লিষ্টরা। খিচুড়ি পেয়ে পেট পুরে খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন পুণ্যার্থীরা। এভাবে ভক্তদের আহার জুটিয়ে মানবসেবা করে যাচ্ছে সাহা কুঠির নামে চট্টগ্রাম নগরের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে আরও কয়েকটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান।

২০১৪ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি চন্দ্রনাথ পাহাড়ে শিবচতুর্দশী মেলার তিন দিন বিনা মূল্যে ভক্তদের খিচুড়ি ও পানি বিতরণ করে আসছে। এবারের মেলাতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। মেলায় তিন দিন ধরে খিচুড়ি বিতরণের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। মেলার প্রথম দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে সাহা কুঠিরে প্রসাদ নেন রাউজানের পথেরহাট নোয়াপাড়ার বাসিন্দা দেবাশীষ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ব্রত রেখে সকালেই চন্দ্রনাথ দর্শনে রওনা দেন তিনি। তপ্ত রোদে ক্ষুধা আর পিপাসায় আর চলতে পারছিলেন না তিনি। ফেরার পথে মানুষের লাইন দেখে তিনিও দাঁড়িয়ে পড়েন। এরপর প্রসাদ পেয়ে খেয়েছেন পেট পুরে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্যান্ডেলের দক্ষিণ পাশে হাত ধোয়ার বেসিন আছে। পশ্চিম পাশে চলছে ১০টি চুলায় রান্নার কাজ। ভেতরে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা কক্ষ করা হয়েছে। প্লাস্টিকের প্লেটে করে স্বেচ্ছাসেবকেরা খিচুড়ি বেড়ে রেখেছেন। একদল খেয়ে উঠলে লাইনে দাঁড়ানো অপর দলকে খিচুড়ি দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

সেখানে কথা হয় সাহা কুঠিরের তত্ত্বাবধায়ক রনি সাহার সঙ্গে। তিনি বলেন, ২০১৩ সালে দেশে যখন অস্থিতিশীল পরিবেশ চলছিল। তখন মেলায় এসে অনেক ভক্ত আটকা পড়েন। অনেকে খাবারের কষ্ট করছিলেন। ওই বছরেই তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন মেলায় আসা ভক্তদের একবেলা আহার দেবেন। পরের বছর থেকে তাঁরা প্রস্তুতি নিয়ে একবেলা খাবার দেওয়া শুরু করেন। তখনো দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ চলছিল। এরপর থেকে প্রতিবছর তাঁরা মেলায় আসা ভক্তদের বিনা মূল্যে খাবার দিয়ে আসছেন।

রনি সাহা বলেন, গত বছর তাঁরা ৯৭ হাজার মানুষকে খাইয়েছেন। এ বছর এক লাখ মানুষকে খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা আছে। মেলা চলবে তিন দিন। তিন দিনই তাঁরা খাওয়াবেন। আজ শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছেন তাঁরা।

সাহা কুঠিরের পেছনের ঘটনা জানতে চাইলে রনি সাহা জানান, সাহা পরিবারের ব্যক্তিগত ব্যবসা-বাণিজ্য আছে। প্রতিষ্ঠানের নামে তাঁরা এই খাবার বিতরণ করতে চাননি। তাই বাড়ির নামেই খাবার বিতরণের জন্য স্রাইন (এস্টেট) কমিটির অনুমতি নিয়েছেন। সনাতনী ধনী ভাইয়েরা এগিয়ে এলে মেলায় আসা লাখো ভক্তের খাদ্যে কিছুটা সাশ্রয় হতো।

সাহা কুঠিরের মতো এত বড় পরিসরে না হলেও এগিয়ে এসেছে জাগো হিন্দু পরিষদ, জন্মাষ্টমী উদ্‌যাপন পরিষদ, সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অনেক প্রতিষ্ঠান। জাগো হিন্দু পরিষদ ৩ নম্বর সেতু এলাকায় একটি স্টল তৈরি করে মেলায় আসা ভক্তদের বিনা মূল্যে ওষুধ, শুকনা খাবার ও খিচুড়ি বিতরণ করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন