বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, করোনায় সদর উপজেলার বুড়িপোতা গ্রামের মকছেদ আলী (৭০), কোলা গ্রামের সালমা খাতুন (৬৫), বলিয়ারপুর গ্রামের সারজিনা খাতুন (৩৫), গোভিপুর গ্রামের আফতাব আলী (৬৫), পৌর শহরের হালদারপাড়ার বাসিন্দা রমজান আলী (৬৫); মুজিবনগর উপজেলার তারানগর গ্রামের বাসিন্দা আসারা খাতুন (৪০), মোনাখালী গ্রামের ইসতাকন মিয়া (৬৫) ও গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের মাহাতাব আলী (৬৫) মারা গেছেন।

জেনারেল হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খাদিজা খাতুন (৭০), আবদুল হান্নান (৬৫), মরিয়ম নেছা (৪৮), কাফরুল আলম (৫৫) ও সোনাভানু (৫৫) মারা গেছেন। উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে তাঁরা মারা যান।

জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত দুজন নার্স প্রথম আলোকে বলেন, জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ কারণে হাসপাতালে করোনা ইউনিট আরও বড় করা হয়েছে। এখানে ১২০ জন রোগী ভর্তি। বর্তমানে  করোনা রোগীদের জন্য ২০০টি শয্যা ব্যবহার করতে হচ্ছে। যাঁদের হাসপাতালে আনা হচ্ছে, অনেকের একেবারে শেষ সময়ে। বাড়িতে গোপনে চিকিৎসা নেওয়ার কারণে মৃত্যুহার বাড়ছে। উপসর্গ থাকা রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব।

জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মকলেছুর রহমান বলেন, বর্তমানে করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একেবারে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোগীদের হাসপাতালে আনা হচ্ছে। পুরো হাসপাতাল এখন করোনা হাসপাতালে রূপান্তর হয়ে গেছে। তারপরও জরুরি রোগীদেরও পৃথক সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটায় সদর উপজেলার উজলপুর গ্রামের বাসিন্দা লিয়াকত মিয়া (৬৫) করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হয়েছেন। ওই এলাকার দুই বাসিন্দা বলেন, উপসর্গ নিয়ে কেউ মারা গেলে আগের মতো তাঁদের পরিবারের অন্য সদস্যদের করোনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেয় না জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ কারণে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন নাসির উদ্দিন বলেন, করোনা রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য ও রোগীদের চিকিৎসার ব্যাপারে জেলাজুড়ে গ্রামে গ্রামে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। এরপরও করোনা উপসর্গ থাকলে পরীক্ষা–নিরীক্ষা না করানো ও রোগ গোপন করার বড় একটা প্রবণতা দেখা দিয়েছে। তারপরও জেলায় করোনা চিকিৎসাব্যবস্থা অনেকটা উন্নত হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন