মেহেরপুরে নিজ দপ্তরে প্রকৌশলীকে মারধর করলেন দুই ছাত্রলীগ নেতা

মেহেরপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বারিকুল ইসলাম (বাঁয়ে) এবং সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুরে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অনুজ কুমার দেকে তাঁর নিজ দপ্তরে ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌর শহরের সওজ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ওই দুই নেতা হলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বারিকুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম।

অনুজ কুমার দে বলেন, ‘শহীদুল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সওজের একটি সড়ক সংস্কারের ঠিকাদারি কাজ পেয়েছে। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ দেখভাল করার দায়িত্বে রয়েছেন স্থানীয় ছাত্রলীগের দুই নেতা বারিকুল ইসলাম ও রাশেদুল ইসলাম। তাঁরা আজ সকালে দপ্তরে এসে কাজ সম্পন্ন না করেই বিল তুলতে চাপ প্রয়োগ করেন। আমি রাজি না হওয়ায় একপর্যায়ে আমাকে তাঁরা দুজন মারধর করে চলে যান।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সওজের দুজন কর্মকর্তা বলেন, সংস্কারকাজের জন্য পাথর, বালু, জ্বালানি কাঠ, ব্যাগ ইত্যাদি ক্রয়ের জন্য শহীদুল এন্টারপ্রাইজ দরপত্র পায়। পরে সেই কাজ বারিকুল ইসলাম কিনে নেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ ভাগ মালামাল সরবরাহ করেছেন তিনি, যার মূল্য ১২-১৩ লাখ টাকা হতে পারে। কিন্তু শতভাগ মালামাল সরবরাহের কথা বলে ৩৯ লাখ টাকার বিল জমা দিয়েছেন। প্রকৌশলী অনুজ কুমার ওই বিলে স্বাক্ষর না করলে দুজন ছাত্রলীগ নেতা মারধর করে চলে যান।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ ভাগ মালামাল সরবরাহ করেছেন বারিকুল ইসলাম, যার মূল্য ১২-১৩ লাখ টাকা হতে পারে। কিন্তু শতভাগ মালামাল সরবরাহের কথা বলে ৩৯ লাখ টাকার বিল জমা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বারিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রকৌশলী অনুজ কুমার দেকে মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি তাঁদের কাছ থেকে বিল পাব। কিন্তু বিল না দিয়ে ঘোরাচ্ছেন। আমি বলেছি, জুন ক্লোজিং শেষ হয়ে যাচ্ছে, বিলটা তাড়াতাড়ি দিয়ে দেন। কিন্তু বিল না দিয়ে কাল দেব, পরশু দেব বলে শুধু ঘোরাচ্ছেন। যে কারণে কথা–কাটাকাটি হয়েছে।’

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দপ্তরে মারধরের ঘটনায় কর্মকর্তাদের মধ্যে একধরনের উদ্বেগ কাজ করছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য সদর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ দারা খান বলেন, মারধরের শিকার প্রকৌশলী অনুজ কুমার দে ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতা বারিকুল ইসলাম লিজন ও রাশেদুল ইসলামকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলার বিস্তারিত তিনি বলেননি। পুলিশ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে জানান ওসি।