বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত এক দশকে ময়মনসিংহ নগরে বিলাসবহুল অনেক রেস্টুরেন্ট হয়েছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনেকে নিজেদের পুরোনো রেস্টুরেন্টে করেছেন আধুনিক সাজসজ্জা। কিন্তু জিলা স্কুল মোড়ের হোটেল মেহেরবান গত ১০ বছরে একটুও বদলায়নি। পুরোনো ছোট্ট ঘরেই চলছে হোটেল মেহেরবান। কিন্তু টক জিলাপির কারণে এ হোটেলের জনপ্রিয়তা বেশি।

হোটেলের মালিক মো. জাকির হোসেন। তিনি নিজেই এই জিলাপির আবিষ্কারক বলে দাবি করেন। জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর ময়মনসিংহ ও আশপাশের জেলায় অনেকেই এখন এ জিলাপি তৈরি করছেন।

জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি ৩২ বছর ধরে এ জিলাপি তৈরি করেন। শুরুর দিকে অন্যের দোকানের কর্মচারী হিসেবে তৈরি করলেও ২২ বছর আগে তিনি নিজেই এ জিলাপির দোকানের মালিক হন। মাষকলাইয়ের ডাল, চাল, ময়দা ও তেঁতুলের টক ব্যবহার করে টক জিলাপি তৈরি করেন।

প্রথমবার টক জিলাপি তৈরির অভিজ্ঞতা আজও মনে আছে জাকিরের। সেদিন খুব বৃষ্টি ছিল। বৃষ্টির কারণে সারা দিন জিলাপি বেচা হয়েছিল খুব কম। যে কারণে জিলাপি তৈরির উপাদান নষ্ট হচ্ছিল। পরে ময়দা মেশানো উপাদানের সঙ্গে চাল, ডাল আর তেঁতুলের টক মিশিয়ে কিছু জিলাপি তৈরি করেন। ওই জিলাপি পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের খেতে দেন। খেয়ে সবাই খুশি হন। পরে একদিন আরও কিছু জিলাপি তৈরি করে বন্ধুদের খাওয়ান। বন্ধুরাও জানান টক জিলাপির ভিন্ন স্বাদের কথা। এর পর থেকেই তিনি বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করতে শুরু করেন।

সারা বছর এক ধরনের টক জিলাপি তৈরি করলেও রোজায় বিশেষত্ব আনেন। সাধারণ মানের জিলাপির পাশাপাশি রমজান মাসে আমৃত্তি ও ঘিয়ে ভাজা স্পেশাল জিলাপি তৈরি করেন। সাধারণ জিলাপি ১৬০ টাকা আর ঘিয়ে ভাজা জিলাপি ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

চলতি বছর রমজান মাসের শুরু থেকেই গড়ে ছয় মণ করে জিলাপি তৈরি করছেন। মোট ছয়জন কারিগর (শ্রমিক) ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত পালাক্রমে তৈরি করেন জিলাপি।

এ জিলাপি নিয়ে সাহিত্য সংগঠন ও ছড়াকার আলী ইউসুফ বলেন, ‘ময়মনসিংহের এ টক জিলাপি খুবই জনপ্রিয় খাবার। বিশেষ করে রমজান মাসে এ জিলাপি ময়মনসিংহের মানুষের ঘরে ঘরে যায়।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন