মোংলায় চিংড়িঘের দখল নিয়ে হামলায় একজন নিহত

লাশ
প্রতীকী ছবি

বাগেরহাটের মোংলায় চিংড়িঘের দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকায় হতাহতের ওই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর আহত বেশ কয়েকজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সোয়া ১০টার দিকে মোতাহার সরদার (৪২) নামের একজনের মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, সোনাইলতলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি চিংড়িঘের নিয়ে বর্তমান ইউপি সদস্য আবদুল্লাহ শেখ ও সাবেক ইউপি সদস্য ফরিদ হোসেনের লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধপূর্ণ ওই ঘেরের পাড়ে একটি ঘর নির্মাণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে উত্তেজনা শুরু হয়। সন্ধ্যায় সাবেক ইউপি সদস্যের লোকজন ওই ঘেরের পাড়ে ঘর তুলে ফেরার সময় সোনাইলতলা এলাকায় ইউপি সদস্যের সমর্থকদের সঙ্গে মারামারি হয়। এ সময় উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অন্যের ওপর হামলা করে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে নেয়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, নিহত মোতাহার সরদার সাবেক ইউপি সদস্য ফরিদের সমর্থক। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে আজ বুধবার বিকেলে গ্রামে দাফনের কথা রয়েছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় পক্ষের অর্ধশত লোক লাঠিসোঁটা, রড, রামদা ও ছুরি নিয়ে অংশ নেন। এ সময় গুরুতর আহত উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জনকে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ইউপি সদস্য আবদুল্লাহ শেখ ও সাবেক ইউপি সদস্য ফরিদ হোসেনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম আজ দুপুর পৌনে ১২টায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মূলত ঘেরের পাড়ে ঘর নির্মাণ ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে ওই ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত কয়েকজনকে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।