default-image

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গোপালগঞ্জ সফর কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনার সৃস্টি হয়েছে। বিশেষ করে কাশিয়ানীর ওড়াকান্দিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের আদি ধর্মস্থান সফরের খবরে উচ্ছ্বাসিত সেখানকার লোকজন। নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানাতে চলছে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতাসহ নানা প্রস্তুতি।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর কথা রয়েছে নরেন্দ্র মোদির। পাশাপাশি গোপালগঞ্জে কাশিয়ানীর শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িও পরিদর্শন করতে পারেন তিনি।

ওড়াকান্দি হচ্ছে মতুয়া মতবাদের প্রবক্তা হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মস্থান। সারা পৃথিবীতে এই মতবাদের অনুসারী কয়েক কোটি মানুষ ছড়িয়ে রয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস রয়েছে। মতুয়া অনুসারীদের প্রধান তীর্থস্থান হলো ওড়াকান্দির ঠাকুরবাড়ির হরিমন্দির।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশস্থ ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা ৯ মার্চ ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন করেছেন। এরপর পুলিশের ঢাকা বিভাগের ডিআইজি হাবিবুর রহমান ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন করেন।

বাংলাদেশ মতুয়া মহা মিশনের সংঘাতিপতি মতুয়াচার্চ পদ্মনাভ ঠাকুর বলেন, ‘আমরা জেনেছি নরেন্দ্র মোদি ঠাকুরবাড়ির হরিমন্দিরে পূজা দেবেন। এ ছাড়া তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি প্রস্তুত।’

বিজ্ঞাপন

মতুয়া অনুসারী অসীত বরণ রায় বলেন, শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ছিলেন নিপীড়িত ও অবহেলিত মানুষের মুক্তির কান্ডারি। তিনি তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনার পাশপাশি সুবিধাবঞ্চিত অনগ্রসর হিন্দু সমাজকে শিক্ষা–দীক্ষায় পূর্ণতা দিয়ে আলোকিত করেন। অসীত বরণ রায় বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে ভারত আমাদের আশ্রয় দিয়েছে। আমরা এ জন্য ভারতের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। এবার নরেন্দ্র মোদির সফরের মধ্য দিয়ে আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।’

ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর বলেন, নরেন্দ্র মোদির ওড়াকান্দি সফর কেন্দ্র করে মতুয়া মতাবলম্বীদের মধ্যে জাগরণের সৃষ্টি হয়েছে।

ওড়াকান্দি হরিমন্দিরের সেবায়েত হরি গোসাই বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনি পূজা করতে সহযোগিতা করবেন। হরিচাঁদ ঠাকুর মোদির মনের আশা পূর্ণ করবেন। পরে মতুয়া সম্প্রদায় ও বিশ্বের সব মানুষের কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করা হবে।

এদিকে টুঙ্গিপাড়ার পৌর মেয়র শেখ তোজাম্মেল হক বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশে আসছেন। তিনি কাশিয়ানীর শ্রীধাম ওড়াকান্দি পরিদর্শন ও টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন। এ বিষয়ে পৌরসভার পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার আয়শা সিদ্দিকা প্রথম আলোকে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমন উপলক্ষে তাঁরা প্রাথমিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কয়েকটি সভা করেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন