স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকে মাঘান সিয়াধার ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বন্যার্তদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়। পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক প্রত্যেকের হাতে একটি ব্যাগে ৮ কেজি করে সরকারি সাহায্যের চাল তুলে দেন। এ সময় ত্রাণ নিতে মাঘান উচ্চবিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া এক গৃহবধূ, তরুণ ও বৃদ্ধ লাইনে দাঁড়ান। চেয়ারম্যান তাঁদের দেখে ‘তোরা কি এইখানকার’ বলে মাথায় থাপ্পড় দিয়ে সরিয়ে দেন। অবশ্য পরে তাঁদের চাল দেওয়া হয়।

ইউএনও বলেন, এ নিয়ে চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী একজন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বন্যায় বাড়িঘর পানিতে ডুবে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে উঠছি। খাবার না থাকায় পরিষদ থেকে চাল আনতাম গিয়াছিলাম। আমরা তো চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত চাল আনতে যাই নাই। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের চাল তিনি আমাদের না দিয়া চড়–থাপ্পড় মাইরা তাড়াইয়া দেন। পরে অবশ্য চাল দিছুইন। তিনি আমরারে অপমান করছুইন। এইডার বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি এখন যেভাবে ছড়ানো হচ্ছে, তা এমন না। বারবার ত্রাণ নিতে আসায় তাঁদের হালকা একটা থাপ্পড় মাইরা সরিয়ে দিয়েছিলাম। এরা আমার এলাকার সন্তান। পরে তাঁদের মাথায় হাত দিয়ে আদর করেছি। এখানে কোনো লাঞ্ছিতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ফেসবুকে এখন এই ভিডিও শুধু শুধু ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি জানান, ইউনিয়নের গ্রামগুলো এখনো পানিবন্দী। বন্যার্তদের মধ্যে সাড়ে চার মেট্রিক টন জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছাব্বির আহমেদ আকুঞ্জি প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন