বিজ্ঞাপন

বিকেল চারটার দিকে সৈকতের কলাতলী পয়েন্টে নেমে দেখা গেল, পাঁচ-সাত জনের কয়েকটি পৃথক দল সমুদ্রের পানিতে নেমে লোনা জলে শরীর ভেজাচ্ছে। বেশির ভাগ শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী। সবার পরনে নতুন জামা–কাপড়, চোখে কালো চশমা। তবে কারও মুখে মাস্ক নেই। অনেকে মুঠোফোনে তুলছেন সেলফি, ভিডিও। মুহূর্তে সেই ছবি ও ভিডিও আপলোড হচ্ছে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের নানা মাধ্যমে।
লকডাউন ও করোনার সংক্রমণ রোধে জারি করা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ যেন সৈকতে নামতে না পারেন, সে জন্য সৈকতে নামার মোড়ে মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেড দেখা গেছে। আছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে একাধিক স্বেচ্ছাসেবীর পাহারা। তারপরও ফাঁকফোঁক দিয়ে লোকজন নেমে পড়ছেন সমুদ্রসৈকতে।

করোনার সংক্রমণ রোধে ১ এপ্রিল থেকে সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের সমাগম নিষিদ্ধ করে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে স্থানীয় লোকজনেরও সৈকতে নামার সুযোগ ছিল না। ফলে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা ৪৩ দিন পুরো সৈকত ফাঁকা পড়েছিল।
বিকেলে কলাতলী সৈকতে কথা হয় কক্সবাজার সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সিদরাতুল মুনতাহার সঙ্গে। লকডাউন উপেক্ষা করে সমুদ্রে নামা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রচণ্ড গরম। তা ছাড়া ঈদ। ঘরে কতক্ষণ বসে থাকা যায় বলেন? তাই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে বন্ধুদের নিয়ে ছুটে এলাম সৈকতে। দীর্ঘদিন পর সমুদ্রের লোনা জলে মন ভেজাতে পারলাম, ভালোই লাগছে।’

শহরের ঘোনাপাড়া থেকে আসা তরুণ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা ও লকডাউনের কারণে এত দিন ঘরে আটকে ছিলাম। ঈদ উপলক্ষে সৈকত খোলা থাকবে ভেবে এসেছিলাম, দেখি পুলিশের পাহারা। তবু ঝাউবাগানের ফাঁক দিয়ে কয়েকজন বন্ধু নেমে পড়েছি সৈকতে, কিছু ছবি তুলে উঠে যাব।’

কথা বলা শেষ না হতেই শোনা গেল হুইসেলের আওয়াজ। কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী হুইসেল বাজাতে বাজাতে ছুটে আসছিলেন। তরুণ-তরুণীরা ততক্ষণে বুঝে ফেলেছেন ঘটনা খারাপ। স্বেচ্ছাসেবীরা পৌঁছার আগেই দৌড়ে পালালেন তাঁরা।

জেলা প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবী হায়দার আলী প্রথম আলোকে বলেন, সকাল থেকে তিনি কলাতলীর একটি পয়েন্ট থেকে শতাধিক কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীকে সৈকতের পানি থেকে তুলে দিয়েছেন। একদিক থেকে তাড়িয়ে দিলে অন্যদিক থেকে নেমে পড়ছে লোকজন। কমবেশি সবাই স্থানীয়। ঈদের বিশেষ মুহূর্তে লোনা জলে দাপাদাপি এবং মুঠোফোনে ছবি তুলতেই তাঁরা সৈকতে নামছেন। জনবল কম বলে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।

default-image

সৈকতের সুগন্ধা, সিগাল, লাবণী, শৈবাল পয়েন্টেও একই চিত্র দেখা গেছে। কলাতলী থেকে শৈবাল পয়েন্ট পযন্ত পাঁচ কিলোমিটারে তিনটি পয়েন্টে পাহারা দিচ্ছেন জেলা প্রশাসনের ১৩ জন স্বেচ্ছাসেবী। এর মধ্যে কলাতলীতে ৩ জন, সুগন্ধা পয়েন্টে ৪ জন এবং লাবণী পয়েন্টে ৬ জন। স্বেচ্ছাসেবীরা পানিতে নামলে তুলে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন।

সকাল থেকে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট ও মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে পাহারা বসিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ। লোকজনের পাশাপাশি তারা যানবাহন চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জিললুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, করোনার সংক্রমণ রোধে ১ এপ্রিল থেকে সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের সমাগম নিষিদ্ধ করে জেলা প্রশাসন। এরপর থেকে সৈকতে কাউকে নামতে দেওয়া হচ্ছে না। ঈদ উপলক্ষে আজ স্থানীয় অনেকে সৈকতে নামার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু হাতেগোনা কিছু লোক নানা উপায়ে সৈকতে নামলেও সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের তুলে দেওয়া হয়েছে। কাল শনিবার থেকে কাউকে নামতে দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে আরও কঠোর হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিন আল পারভেজ প্রথম আলোকে বলেন, ১৬ মে পর্যন্ত লকডাউন কার্যকর আছে। এ সময় পর্যন্ত কেউ যেন সৈকতে নামতে না পারেন, সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে রাখা হয়েছে। সৈকতে নামার পথগুলো ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে। কোনো হোটেল–মোটেলে যেন বাইরে লোকজনকে কক্ষ ভাড়া দেওয়া না হয়, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে আগেই নির্দেশনা দেওয়া আছে।

কক্সবাজার কলাতলী মেরিনড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান প্রথম আলোকে বলেন, ১৬ মে পর্যন্ত লকডাউন আছে। এ সময়ে মধ্যে কোনো হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস, কটেজে পর্যটকদের রাতযাপনের জন্য অগ্রিম কক্ষ ভাড়া দেয়নি। গত ১ এপ্রিল থেকে শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল–মোটেল খালি পড়ে আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন