বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরপাড়ের কাদিপুর-অন্তেহরি সড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটারজুড়ে এই সংস্কারকাজ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দল বেঁধে কাজ চলছে। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কাউয়াদীঘি হাওরপাড়ের কাদিপুর-অন্তেহরি সড়কটি প্রায় আট বছর ধরে ভেঙেচুরে আছে। এই সড়কটি পড়েছে সদর উপজেলার আখাইলকুরা এবং রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে। সড়কটি শুকনা মৌসুমে যেমন-তেমন, বর্ষায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অনেক গর্ত। গর্তে পানি জমে স্থানগুলো বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কাদাভরা এই রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলার আর সুযোগ থাকে না। পায়ে চলাই মুশকিল হয়ে পড়ে। এই সড়ক দিয়ে কাউয়াদীঘি হাওরের ধান নিয়ে বাড়িঘরে ফেরে মানুষ। হাওরের মাছ নিয়ে বিভিন্ন শহরে যান মৎস্যজীবীরা।

এলাকার অনেক সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী আছেন। যাঁরা প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে মৌলভীবাজার জেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে আসা-যাওয়া করেন। এ ছাড়া এই সড়ক দিয়ে ‘জলের গ্রাম অন্তেহরিতে’ পর্যটকেরা ঘুরতে আসেন। রাস্তাটির উন্নয়নের জন্য স্থানীয় মানুষ নানাভাবে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোনো ফায়দা হয়নি। শেষমেশ নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। এলাকার সব কটি গ্রামের মানুষ বিভিন্নভাবে এই কাজে যুক্ত হয়েছেন। কেউ নগদ টাকা দিয়েছেন ইট-বালু কেনার জন্য। কেউ নিজেরাই কাজ করেছেন। এ রাস্তা দিয়ে আখাইলকুড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং ফতেহপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রামগুলোর প্রায় ১৫ হাজার মানুষ চলাচল করে। এটাই তাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা।

অন্তেহরি গ্রামের গৌরা দেবনাথ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাস্তা এতটা খারাপ, যোগাযোগব্যবস্থা একেবারে অচল হয়ে পড়েছে। এই রাস্তা দিয়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ চলাচল করে। স্থানীয় চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সবাই মিলে কাজ করেছি। যে পারছে টাকা দিছে। যে পারছে শ্রম দিছে। সকাল থেকে আমরা কাজ শুরু করি। বিকেল পর্যন্ত কাজ হয়েছে। ইট–বালু ফেলে রাস্তাটিকে চলার উপযোগী করা হয়েছে।’

স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে অর্ধশতাধিক মানুষ রাস্তার কাজে নেমে আসেন। ট্রাকে করে নিয়ে আসা হয় ইট-বালু। কেউ সেই বালু ও মাটি গর্তে ফেলেছেন, কেউ ইট ভেঙে টুকরা টুকরা করে গর্ত ভরাট করেছেন। ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নকুল চন্দ্র দাশ, আখাইলকুড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য গপেশ নমশূদ্র, অন্তেহরি গ্রামের মঞ্জু চক্রবর্তী, গৌরা দেবনাথ, পিন্টু দাশ, রিপন দাশ, কাদিপুর গ্রামের অরুন নমশূদ্র, বকুল দেবনাথ প্রমুখ সম্মিলিতভাবে কাজের তদারকি করেন। কাদিপুর থেকে অন্তেহরি বাজার হয়ে অন্তেহরি গ্রামের ভেতর দিয়ে কাউয়াদীঘি হাওরে যাওয়ার রাস্তা পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় এই সংস্কারকাজ করা হয়েছে।

ফতেহপুর ইউপি চেয়ারম্যান নকুল চন্দ্র দাশ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাঁচা রাস্তা। এমনিতেই খারাপ। বোরো মৌসুমে ধানের ট্রাক চলাচল করায় আরও খারাপ হয়ে গেছে। মানুষ যেতে আসতে পারে না। রোগী নিয়ে যাওয়া যায় না। কবে রাস্তায় কাজ হবে, সেটা সময়সাপেক্ষ। এলাকার মানুষ যাতে চলাচল করতে পারে। এ জন্য গ্রামের সবাইকে নিয়ে কিছু টাকাপয়সা তুলে নিজেরাই রাস্তার সংস্কারকাজ করা হয়েছে।’

সদর উপজেলা প্রকৌশলী আলমগীর চৌধুরী বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। কিন্তু সব সময় তো চাইলেই সব কাজ করা যায় না। এ বছর রাস্তাটি উন্নয়নের প্রকল্প প্রস্তাব দেব। চেষ্টা করব কাজ করার।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন