ময়নাতদন্ত নিয়ে রাতভর পুলিশ ও মৃত ব্যক্তির স্বজনের মধ্যে উত্তেজনা

ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নিতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে মৃত ব্যক্তির স্বজনদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। শনিবার রাত ১১টার দিকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
ছবি: সংগৃহীত

গাছ থেকে পড়ে আহত এক ব্যক্তিকে নেওয়া হয়েছিল পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর স্বজনেরা লাশ বাড়ি নিয়ে যেতে চান। তবে পুলিশ ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানালে স্বজনদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। সন্ধ্যা থেকে রাতভর চলে ধাক্কাধাক্কি আর লাশ নিয়ে টানাহেঁচড়া। পুলিশের হাতে আটকও হন তিন স্বজন। শেষ পর্যন্ত আজ রোববার ভোরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশটি হস্তান্তর করা হয়।

মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির নাম মো. আবুল বাশার (৪২)। তিনি বরগুনার বেতাগী উপজেলার জলিশা বাজারে মুদি-মনিহারির ব্যবসা করতেন।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মির্জাগঞ্জের পার্শ্ববর্তী বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের জলিসা গ্রামের আবুল বাশার গতকাল শনিবার বিকেলে স্থানীয় একটি গাছে আমড়া পাড়তে উঠেছিলেন। এ সময় পা ফসকে গাছ থেকে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সন্ধ্যা ছয়টায় মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তানভীর হাসান তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবুল বাশারের দুই স্ত্রী নাজমা, হাওয়া বেগমসহ স্বজনেরা জানান, আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই বাশারের মৃত্যু হয়। এর পরই শুরু হয় পুলিশের নানা ধরনের ‘নাটক’। মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিবুল্লাহ তাঁদের বলেন, লাশ হস্তান্তরে বেতাগী থানার পুলিশ লাগবে। বেতাগী থানার পুলিশ এলে তাদের মধ্যে কথাবার্তা হওয়ার পরেও লাশ হস্তান্তরে গড়িমসি করে মির্জাগঞ্জ থানা–পুলিশ। পরে লাশ নিয়ে থানায় যেতে চাইলে টানাহেঁচড়া হয়। তিনজনকে আটক করে মারধরও করে। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে ভোররাতে কয়েকটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ।

মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. মহিবুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, এ ব্যাপারে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ওই ব্যবসায়ী মির্জাগঞ্জ উপজেলার নিকটবর্তী বেতাগী উপজেলার জলিশা বাজারে মুদি ও মনিহারি ব্যবসা করতেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনা স্বাভাবিক কি না, জানতে কিছুটা সময় লেগেছে।

ওসি বলেন, এদিকে স্বজনেরা আবেগতাড়িত হয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দ্রুত লাশ নিতে চাওয়ায় কর্তব্যরত পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের বিরূদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে তিনজনকে আটক করা হয়েছিল, পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।