default-image

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে করোনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাব চালুর পর থেকে প্রতিদিনই এই ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রথম দিকে কমসংখ্যক নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে ল্যাবটির যাত্রা শুরু হলেও ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বাড়তে থাকে। গতকাল বুধবার রেকর্ডসংখ্যক ৯০১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর আগে প্রতিদিন ৭৫২টি নমুনা পরীক্ষা হতো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার বাইরে একক ল্যাব হিসেবে এই ল্যাবে সর্বোচ্চসংখ্যক নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। বায়োপসি-২ লেভেল মানের এই পিসিআর ল্যাবে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলা ছাড়াও টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর ও সুনামগঞ্জের নমুনাও পরীক্ষা করা হচ্ছে প্রায় সময়। এ পর্যন্ত ২৭ হাজারেরও বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এই ল্যাবে।

১ এপ্রিল ল্যাব চালুর পর প্রথম সপ্তাহে একধাপে হলেও পরের সপ্তাহ থেকে দুই ধাপে পরীক্ষা করা হতো। এরপরও নমুনা পরীক্ষার চাপ অব্যাহত থাকায় আরও এক ধাপ বাড়িয়ে প্রতিদিন তিন ধাপে চলে নমুনা পরীক্ষা। হঠাৎ করে চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশাল নমুনাজটও তৈরি হয়েছিল। চাপ সামাল দিতে ৬০০ নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল।

এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের একটি পিসিআর মেশিন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে ব্যবহারের জন্য দেয়। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও একটি মেশিন পাঠালে মেশিনের সংখ্যা হয় তিনটি। একটি মেশিন স্ট্যান্ডবাই রেখে দুটি মেশিন দিয়ে প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। তাই ল্যাবে কোনো নমুনাজট নেই এবং বেশি পরিমাণে নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছে পিসিআর ল্যাব কর্তৃপক্ষ।

প্রথম দিকে নমুনা সংগ্রহের পরিমাণ কম থাকায় পরীক্ষাও কম হতো বলে জানান মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সালমা আহমাদ। প্রথম ১০ দিনে সক্ষমতার মাত্র অর্ধেক নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল। কিন্তু গত এক মাসে নমুনা সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পিসিআর যন্ত্রের সক্ষমতার পুরোটাই ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। একবার কারিগরি ত্রুটির জন্য মাত্র দুদিন ল্যাব বন্ধ ছিল।

একটি পিসিআর যন্ত্রে এক ধাপে ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করা যায় এবং ফলাফল দিতে সময় লাগে তিন ঘণ্টা। এভাবে প্রতিদিন ৮ ধাপে ১১ জন মাইক্রোবায়োলজিস্ট এবং ৮ জন প্রশিক্ষিত টেকনোলজিস্ট দ্বারা এই পিসিআর ল্যাব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আর গতকাল বুধবার সর্বোচ্চ ১০ ধাপে পরীক্ষা হয়েছে।

দিনদিন নমুনা পরীক্ষা বৃদ্ধির সঙ্গে করোনায় সংক্রমিত রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষার হার বাড়ানো হয়েছে বলে জানান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ চিত্তরঞ্জন দেবনাথ। এই ল্যাবে কোনো সংকট নেই এবং আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩ হাজার কিট মজুদ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন