বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ ঘটনার প্রতিবাদে হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন সন্ধ্যায় শহরের মাটিডালি এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে ওই দিন রাতে তাঁরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পৌরসভার ময়লা অপসারণের কাজ বর্জনের হুমকিও দিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মাটিডালি এলাকার বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বে ছিলেন শ্রী রামু। বেলা ১১টার দিকে তিনি মাটিডালি উচ্চবিদ্যালয় এলাকায় বর্জ্য অপসারণ করতে গেলে প্রধান শিক্ষক লাল মিয়া বিদ্যালয়ের সামনে থাকা আবর্জনা দ্রুত অপসারণ করতে বলেন। তবে ময়লা বহনের ভ্যান ভরে যাওয়ায় রামু পরের দফায় সেখানকার ময়লা অপসারণের কথা বলেন। এতে লাল মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে রামুর হাতে থাকা বেলচা কেড়ে নিয়ে তাঁকে আঘাত করেন। এতে রামু আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। এ সময় অবস্থা বেগতিক দেখে লাল মিয়া দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে রামুকে উদ্ধার করে দ্রুত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের মাটিডালি এলাকায় যান। প্রধান শিক্ষককে না পেয়ে তাঁরা সাতমাথা-মাটিডালি সড়ক অবরোধ করেন।

বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি দীপক হরিজন প্রথম আলোকে বলেন, আহত রামুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁরা বিচারের দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছিলেন। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে তাঁরা পৌরসভার মেয়র ও ওই স্কুলের সভাপতির কাছে মৌখিক নালিশ দিয়েছেন। আজকের (বুধবার) মধ্যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পৌরসভার ময়লা অপসারণ বন্ধ করে কর্মবিরতিসহ কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে লাল মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

এদিকে মাটিডালি উচ্চবিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাহবুব হামিদ প্রথম আলোকে জানান, গতকাল জেলা প্রশাসকের বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসার কথা ছিল। এ কারণে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে সেখানকার ময়লা অপসারণের জন্য প্রধান শিক্ষক অনুরোধ করেছিলেন।

মাহবুব হামিদ বলেন, যথাসময়ে ময়লা অপসারণ না করায় বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক দাবি করছেন, তিনি কাউকে মারধর করেননি। এখন হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তদন্ত করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে।

বগুড়া পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম জানান, রামু পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা বিভাগের একজন খণ্ডকালীন কর্মী। বিষয়টি আমলে নিয়ে পুলিশকে খতিয়ে দেখার জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন