বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।

এর আগে ২০১৯ সালের ২১ জুন থেকে ‘ক্লিন সুরমা, গ্রিন সিলেট’ কর্মসূচি শুরু করেছিল স্বেচ্ছাসেবী ২৭টি সংগঠন। ওই বছর অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ব্রিটিশ তিন এমপি (কনজারভেটিভ পার্টি থেকে নির্বাচিত) পল স্কালি, এনি মারগারেট মেইন ও বব ব্ল্যাকম্যান সুরমা নদীর চাঁদনীঘাটে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গে কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের ২২ সদস্যের প্রতিনিধিদলও অংশ নিয়েছিল। সে সময় সুরমা নদীর তীর ও পাড় পরিচ্ছন্ন হলেও পরবর্তী সময়ে সে কর্মসূচি শেষ হলে আবারও আগের রূপে ফিরে আসে।

এখন সিলেটের শহর চিড়ে বয়ে চলা সুরমা নদীতে প্রতিনিয়ত জমছে মানবসৃষ্ট ময়লা-আবর্জনা। সুরমার পাড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তূপের কারণে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। নদীতীরের বাসিন্দাদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।

সরেজমিন দেখা গেছে, সুরমা নদীর কুশিঘাট, মেন্দিবাগ, ছড়ারপাড়, কালীঘাট, চাঁদনীঘাট, তোপখানা, কাজীরবাজার, কানিশাইল এলাকায় বেশি জমছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এর মধ্যে খাবারের উচ্ছিষ্ট থেকে শুরু করে গৃহস্থালির ময়লা-আবর্জনা পলিথিনের ব্যাগে ভরে ফেলা হয়েছে। পলিথিন ব্যাগ থেকে সেসব ময়লা-আবর্জনা উপচে পড়ছে। পড়ে থাকতে দেখা গেছে ব্যবহৃত ডায়াপার, কলার কাঁদি, বাঁশের চাটাই।

এ ছাড়া কাজীরবাজার এলাকায় ফেলা হচ্ছে পচা মাছ, মাছের আঁশ, সুপারির খোসা, সবজির পচা অংশ। কালীঘাট এলাকার ঘাটে বাজারের উচ্ছিষ্ট ফেলা হচ্ছে। নদীতেও ভেসে যেতে দেখা যায় আবর্জনাভর্তি পলিথিনের ব্যাগ। চাঁদনীঘাটের পাশে ময়লার স্তূপে প্লাস্টিকের গ্লাস, বিস্কুট, চিপসের প্লাস্টিকের তৈরি খালি প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

নগরের তোপখানা এলাকার বাসিন্দা রতন দেব বলেন, কিছুসংখ্যক অসচেতন মানুষ ময়লা-আবর্জনা ফেলে নদীর পাড়কে নোংরা করছেন। এ ছাড়া কিছু ব্যবসায়ীও নদীর পানিকে দূষিত করছেন। এলাকায় ময়লা ফেলার জন্য মাসিক সামান্য টাকায় পরিবহনের ব্যবস্থা থাকলেও কিছু বাসিন্দা সেটি ব্যবহার করতে চান না। তাঁরা গৃহস্থালির ময়লা নদীতে ফেলেই সুখ পান। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। দরকার হলে জরিমানার বিধান রাখা প্রয়োজন।

কুশিঘাট এলাকার বাসিন্দা ফরিদ আহমদ বলেন, মুদিদোকানি থেকে শুরু করে এলাকার বাসিন্দারা ময়লা ব্যাগে ভরে নদীতে ফেলে দেন। পানি কম থাকলে পাড়ে ফেলা হয়। সেগুলো জমে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। এলাকায় এ বিষয়ে একাধিকবার নিষেধ করা হয়েছে। তবে কিছু মানুষ গৃহস্থালির ময়লা-আবর্জনা জমিয়ে গভীর রাতে ফেলে দেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের তুলনায় বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে উৎসাহ বেশি। কারণ, সেগুলোয় টাকাপয়সার ব্যাপার রয়েছে। কিন্তু শহরের ভেতরে বয়ে যাওয়া খাল-ছড়ায় এবার বছরের প্রথম বৃষ্টিতে টনের পর টন ময়লা–আবর্জনা গড়িয়ে সুরমায় পড়েছে, সেদিকে তারা খেয়াল করেনি। জনসাধারণকে সচেতন করা কিংবা প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে সেটি রোধ করার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিতে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে দেখা যায়নি।

আবদুল করিম চৌধুরী বলেন, কিছু মহল্লার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছড়া-খালের পাশে দেয়াল ভেঙে ময়লা ফেলার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেসব মহল্লার বাসিন্দারা বলছেন, ময়লা ফেলার জন্য এলাকায় কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরা ছড়ায় ময়লা ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। সিটি করপোরেশন এর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারত।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, মহল্লাগুলোয় রয়েছে ময়লা নিষ্কাশনের আলাদা ব্যবস্থা। এরপরও নদীর পাড়গুলো পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সিটি করপোরেশন বারবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান থেকে শুরু করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করে। নদীর পাড়ে যাতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা না হয়, এ জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন তাঁরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন