সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতাল ভবনের পেছনে নতুন ভবনের সামনে, সাইকেল গ্যারেজের উল্টো দিকে, পূর্ব গেটের প্রবেশমুখসহ হাসপাতাল চত্বরজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। রোগীর স্বজন সোহানুর রহমান বলেছেন, এত বড় হাসপাতালে ময়লা ফেলার স্থান হলো একটি। তা-ও আবার ভবনের পেছনে। সেখানে যাওয়াই যায় না। কেননা, ওই ডাস্টবিনের চারপাশে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে। তাই বাধ্য হয়ে অনেকে সুযোগ বুঝে যেখানে-সেখানে ফেলেন।

হাসপাতাল ও সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন প্রিজম বাংলাদেশ নামের একটি সংস্থার মাধ্যমে মেডিকেল বর্জ্য অপসারণ করে। ২০০৮ সালের চিকিৎসা বর্জ্য বিধিমালা আইন অনুযায়ী মেডিকেল বর্জ্য পাঁচ প্রকার। সেগুলো হলো সংক্রামক, ধারালো, পুনঃচক্রায়নযোগ্য, তরল ও সাধারণ। এসব বর্জ্য ফেলার জন্য পৃথক পৃথক পাঁচ রঙের ডাস্টবিন ব্যবহার করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের পেছনে ওই একটি স্থানেই সব ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ডাস্টবিনে পৃথক করে এসব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে না।

রংপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান মিজানুর রহমান বলেন, ২০০৮ সালে চিকিৎসা বর্জ্য বিধিমালা আইন হয়েছে। সে থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে বর্জ্য অপসারণের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠুক। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায় না। এমনকি এ বিষয়ে যোগাযোগের জন্য হাসপাতালের পক্ষ থেকে একজন ‘ফোকাল পারসন’ দেওয়ার কথা থাকলেও, তা-ও দেওয়া হয়নি। ফলে বর্জ্য অপসারণে নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে।

হাসপাতালের পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট স্থান আছে। হাসপাতাল চত্বরে কোথাও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ থাকার কথা নয়। তারপরও যদি নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া কোথাও বর্জ্য পড়ে থাকে, তা তদারক করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্জ্য ফেলার একাধিক স্থানে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকা এবং চিকিৎসা বর্জ্যের জন্য পাঁচ ধরনের ডাস্টবিন স্থাপন না করা বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, সামনের স্বাস্থ্যবিষয়ক বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরা হবে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাসপাতাল চত্বরের বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া হয়তো খুব শিগগির শুরু করা সম্ভব হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর মহানগর সভাপতি ফখরুল আনাম বলেন, হাসপাতালগুলোতে অব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতার কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এ বিশৃঙ্খল অবস্থা। নির্দিষ্ট একটি জায়গায় যদি চিকিৎসা বর্জ্যসহ ময়লা-আবর্জনাগুলো ফেলার ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে সংশ্লিষ্ট সবাই স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচতে পারবে। একই সঙ্গে হাসপাতাল প্রাঙ্গণও অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। সবার সুস্থতার কথা চিন্তা করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারপাশ দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন