default-image

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামরুল হাসানের দাপ্তরিক কক্ষে গিয়ে ভাঙচুর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় নিরাপত্তাকর্মী বদিউজ্জামান বাদলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগেও শিক্ষক, কর্মচারী ও রেজিস্ট্রারকে মারধরের ঘটনায় তিনি চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে সম্প্রতি চাকরি ফিরে পান।

এদিকে হামলার শিকার কামরুল হাসান যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় বদিউজ্জামানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে বদিউজ্জামানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন মালি পদের কর্মচারী মোস্তাফিজুর রহমান (৩৩), অফিস সহায়ক আরিফুল ইসলাম ওরফে শাহিন (৩৯), সেকশন অফিসার শাহিন হোসেন (৩৪) ও ইকবাল হোসেন (৪৫) এবং ডেসপাস রাইডার ইমরান হোসেন (৩২)।

বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বেলা দুইটার দিকে কামরুল হাসান নিজের অফিসকক্ষে বসে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী বদিউজ্জামান, সেকশন অফিসার ইকবাল হোসেন ও শাহিন হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন সেখানে গিয়ে অতর্কিত ভাঙচুর চালান। এ সময় তাঁরা কামরুলের কক্ষে থাকা দাপ্তরিক কম্পিউটার, প্রিন্টার ও আসবাব ভাঙচুর করেন। কামরুলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে চেয়ার তুলে মারতে উদ্ধত হন কর্মচারী বদিউজ্জামান। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আনোয়ার হোসেন যশোরের পুলিশ সুপারকে জানান। পুলিশ ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই বদিউজ্জামানকে আটক করে।

এদিকে হামলার বিচার দাবি করে কামরুল হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে আবেদন করেন। বদিউজ্জামানের পক্ষ থেকেও কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাল্টা আবেদন করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসানের কক্ষে গিয়ে হামলার ঘটনায় বদিউজ্জামানকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য শিক্ষক সমিতির সভাপতি ইকবাল কবির জাহিদকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, হামলার ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান। ওই মামলায় বদিউজ্জামানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0