default-image

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে ঘিরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা অনন্য সাজে সাজানো হচ্ছে। রাস্তাঘাট সংস্কারসহ পানি ও বিদ্যুতের মতো জরুরি পরিষেবাগুলো নির্বিঘ্ন করতে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, ২৭ মার্চ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নে অবস্থিত যশোরেশ্বরী কালীমন্দির পরিদর্শনের কথা রয়েছে। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে গোটা শ্যামনগরে জোরদার নিরাপত্তাবলয় তৈরিসহ পরিদর্শনস্থল ও আশপাশের এলাকাকে রীতিমতো মনোমুগ্ধকর সাজে সাজানো হচ্ছে। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রতিনিয়ত প্রস্তুতির খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখতে সব পক্ষকে নিয়ে সভা করা হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আতিথেয়তা দিতে এতটুকু কমতি রাখতে চায় না ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ। তাঁর আগমন থেকে পরিদর্শনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে এসএসএফ।

বিজ্ঞাপন

সরেজিমনে গতকাল শনিবার দেখা যায়, যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরসংলগ্ন এলাকার যাবতীয় অবৈধ স্থাপনা ইতিমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। সফরসঙ্গীসহ নরেন্দ্র মোদিকে বহনকারী হেলিকপ্টার অবতরণের লক্ষ্যে ঈশ্বরীপুর এ সোবহান বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠসহ পার্শ্ববর্তী স্থানে প্রায় ছয়টি হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। হেলিকপ্টার অবতরণের পর যেসব রাস্তা দিয়ে তিনি মন্দির এলাকায় যাবেন, সেসব রাস্তা নতুনভাবে সংস্কার করা হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের সদস্যরা দিনরাত কাজ করছেন। মন্দিরের দুটি অতিথি কক্ষ সজ্জিত করার পাশাপাশি বিকল্প বিশ্রামাগারসহ শৌচাগার নির্মাণেরও কাজ চলছে। ইতিমধ্যে মন্দির ও প্রাচীরের রঙের কাজসহ প্রাচীরের ভাঙা অংশ মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মন্দিরের প্রবেশদ্বারে পুরোনো বটতলা অংশে ইট-পাথরের মিশ্রণে সৌন্দর্যমণ্ডিত চাতাল গড়ে তোলা হচ্ছে। মন্দিরের পূর্ব ও দক্ষিণ প্রান্তের যাবতীয় ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে মন্দিরের শোভা বৃদ্ধিও করা হয়েছে।

বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীর পাশাপাশি বিশিষ্টজনেরা ইতিপূর্বে যশোরেশ্বরী কালীমন্দির পরিদর্শন করলেও কোনো দেশের সরকারপ্রধানের এটাই প্রথম শ্যামনগরে আগমন। সে জন্য রীতিমতো উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে শ্যামনগরসহ গোটা সাতক্ষীরায়। নরেন্দ্র মোদির সফরকে ঘিরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ প্রতিদিন প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা যশোরেশ্বরী মন্দির এলাকার যাবতীয় খুটিনাটি পর্যবেক্ষণ করছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হেলিকপ্টার থেকে অবতরণের পর হতে মন্দির পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশ রঙিন কাপড়ে মুড়িয়ে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্দির এলাকায় পুলিশ ও আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

মন্দিরের সেবায়েত চট্টোপাধ্যায় পরিবারের অন্যতম সদস্য জ্যোতি চট্টোপাধ্যায় জানান, বছরের কার্তিক মাসে মন্দিরে কালীপূজা অনুষ্ঠানের পাশাপাশ পাঠা বলি দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। এ ছাড়া সপ্তাহের প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার সেখানে পূজার ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কালীপূজার সময় সেখানে সাত দিনব্যাপী মেলা বসে। মূলত যশোরেশ্বরী কালীমন্দির বাঙালি সংস্কৃতির অংশ। ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ ছাড়িয়ে সব শ্রেণির মানুষের আগমন ঘটে এখানে। তবে অনেকে বলছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শ্যামনগরে আগমনকে কেন্দ্র করে মাতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। কিন্তু এটি একটি সনাতন ধর্মের দেবীমন্দির হলেও সব ধর্মের মানুষের এখানে আগমন ঘটে।

উল্লেখ্য, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২৬ মার্চ নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে আসবেন। সফরের একপর্যায়ে জাতির জনকের সমাধিস্থল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার আগে সকালের দিকে যশোরেশ্বরী কালীমন্দির পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন