বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ শনিবার দুপুরে বেসরকারি ওই হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ফুটফুটে চার নবজাতককে বিছানায় পাশাপাশি শুইয়ে রাখা হয়েছে। তারা হাত-পা ছুড়ে খেলা করছে। তাদের মা লাক্সমিয়া একটি করে শিশুকে কোলে তুলে নিয়ে বুকের দুধ পান করিয়ে আরেকটি কোলে তুলে নিচ্ছেন। পাশে বসে লাক্সমিয়ার স্বামী আবুল বাসার শিশুদের দুগ্ধপানে সাহায্য করছেন। শিশুদের নানি ও দাদি পাশে বসে অপর তিন শিশুর দেখভাল করছেন।

শিশুদের চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে দেখভাল করছেন যশোর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ও শিশু বিশেষজ্ঞ মাহফুজুর রহমান। শিশুদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চার শিশুই ভালো ও সুস্থ আছে। তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। একসঙ্গে জন্ম নেওয়া চার শিশুর সুস্থভাবে বেঁচে থাকা বাংলাদেশে বিরল ঘটনা। ওই শিশুদের মধ্যে অটিজম হওয়ার প্রবণতা আছে কি না, তা এখনই বোঝা যাচ্ছে না।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, ‘বাংলাদেশে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া চার সন্তানের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার দৃষ্টান্ত নেই। সবাই সুস্থভাবে জীবন যাপন করলে, এটা হবে বাংলাদেশের জন্য বিরল ঘটনা।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, ‘বাংলাদেশে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া চার সন্তানের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার দৃষ্টান্ত নেই। জন্ম নেওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে সাধারণত এক থেকে দুটি শিশু মারা যায়। অন্যদের মধ্যেও অটিজম হওয়ার প্রবণতা থাকে। সে জন্য দুই থেকে তিন বছর আমরা ওই শিশুদের পর্যবেক্ষণে রাখব। সবাই সুস্থভাবে জীবন যাপন করলে, এটা হবে বাংলাদেশের জন্য বিরল ঘটনা।’

গর্ভধারণের আগে থেকেই যশোর মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক নার্গিস আক্তারের তত্ত্বাবধানে ছিলেন লাক্সমিয়া। অস্ত্রোপচারও তিনিই করেছেন। চিকিৎসক নার্গিস আক্তার বলেন, দীর্ঘ সাত বছর লাক্সমিয়া দম্পতির সন্তান হয় না। দেড় বছর আগে তাঁর কাছে চিকিৎসার পরামর্শ নিতে আসেন তাঁরা। এই দম্পতির দুজনেরই কিছু সমস্যা ছিল। চিকিৎসার তিন মাসেই এই গৃহবধূর গর্ভে সন্তান আসে। এর দুই মাস পরই জানতে পারেন তাঁর গর্ভে চার নবজাতক।

নার্গিস আক্তার আরও বলেন, অনেক সময় একসঙ্গে একাধিক শিশু হলে দু-একজন মারা যায়। কিন্তু এই নারীর কোনো সমস্যা হয়নি। চার নবজাতকই সুস্থ আছে। প্রত্যেকের ওজোন দেড় থেকে দুই কেজি।

আবুল বাসার ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানের মালবাহী জাহাজে ইঞ্জিনচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সন্তান জন্ম নেওয়ার পরদিনই জাহাজটি ভারতের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ২০ থেকে ২২ দিন ওই জাহাজটি ভারতে অবস্থান করবে। তিনি ছুটি চেয়েছিলেন। কিন্তু ছুটি পাননি। যে কারণে তিনি চাকরিই ছেড়ে দিয়েছেন। এখন বেকার অবস্থায় আছেন।

আবুল বাসার বলেন, ‘আমার কাছে এখন চাকরির চেয়ে পরিবার বড়। চার সন্তানের দেখভাল করতেই আমি চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছি। এখন আবার নতুন চাকরির খোঁজ করতে হবে। এখনো সন্তানেরা তাদের মায়ের বুকের দুধ পান করছে। একটু বড় হলে হয়তো শুধু বুকের দুধে তাদের পেট ভরবে না। সে ক্ষেত্রে ফর্মুলা দুধ খাওয়াতে হতে পারে। তখন হয়তো আর্থিক সংকটে পড়তে পারি। চাষের যে জায়গাজমি আছে, তাতে বছরের ভাত হয়ে যায়। এখন চার সন্তানকে মানুষ করার বড় দায়িত্ব রয়েছে আমার কাঁধে। আমাদের পরিবারে এখন ঈদের চেয়েও বড় খুশি বিরাজ করছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন