বিজ্ঞাপন

অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় পাঁচজনের করোনা

এদিকে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকার পর করোনা পরীক্ষার মাধ্যমে ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গত শুক্রবার এ প্রজ্ঞাপন জারির পর অ্যান্টিজেন পরীক্ষার মাধ্যমে গতকাল শনিবার থেকে কোয়ারেন্টিনে থাকা যাত্রীদের ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। গতকাল অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় পাঁচজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। পরে তাঁদের আবার পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় যাঁদের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়, তাঁরা সবাই করোনা নেগেটিভ অবস্থায় ভারত থেকে দেশে ফেরেন। কোয়ারেন্টিনে থেকেই তাঁরা করোনা পজিটিভ হয়েছেন। তাঁদের যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে।

তবে আজ থেকে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা বাদ দিয়ে সরাসরি পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার জন্য কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোয়ারেন্টিনে থাকা ৬৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টার ল্যাবে পিসিআর পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে যাঁদের করোনা নেগেটিভ হবে, তাঁদের নিজ বাড়িতে ফেরার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ভারত থেকে ফেরা যাত্রীদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। যাঁদের করোনা নেগেটিভ প্রতিবেদন আসবে, তাঁরাই কেবল ছাড়পত্র পাবেন। কারণ, কোয়ারেন্টিনে থেকে অনেকে করোনা পজিটিভ হচ্ছেন।

পলাতক করোনা রোগীর সন্ধান মেলেনি

যশোর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভারতে নতুন ধরনের করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার গত ২৬ এপ্রিল ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্ত বন্ধ করতে বিধিনিষেধ জারি করে। ২৬ এপ্রিল থেকে আজ পর্যন্ত বেনাপোল দিয়ে দেশে ফেরেন ২ হাজার ৭৯৬ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ২৭৬ জন যশোরে এবং খুলনা বিভাগের অন্যান্য জেলায় ১ হাজার ৫১৫ জনকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। যশোরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল থেকে এ পর্যন্ত ৬২১ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন।

এদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে ফেরার পর যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়া ইউনুস আলীর খোঁজ তিন দিনেও পাওয়া যায়নি। গত বৃহস্পতিবার তাঁকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে পাঠান। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে তিনি ওই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।

জানতে চাইলে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান বলেন, মুঠোফোন ট্র্যাক করে পলাতক করোনা রোগীর অবস্থান নির্ণয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশের দুটি দল তাঁকে আটকের জন্য অভিযান চালাচ্ছে।

কাজী সায়েমুজ্জামান বলেন, যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে দুই দফায় ১১ জন করোনা রোগী পালিয়ে গেছেন। কেন বারবার রোগী পালিয়ে যাচ্ছেন, তা তদন্তের জন্য দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় করোনা প্রতিরোধ কমিটির জরুরি সভায় এ বিষয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন