বিজ্ঞাপন

গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে কোতোয়ালি থানার ১০০ গজের মধ্যে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবিএল) সামনে এনামুল হক নামের এক ব্যক্তিকে ছুরি মেরে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য তাঁরা একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে টাকা নিয়ে পালায়। স্থানীয় লোকজন এনামুলকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় এনামুল হকের ভাই ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয়ের সাত-আটজনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় ছিনতাইয়ের মামলা করেন। ওই টাকা ছিল তাঁদের পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের।

প্রেস ব্রিফিংয়ে যশোরের এসপি মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (আরএন) সড়কে আগমনী মোটরস ও আরা ইন্টারন্যাশনাল নামে এনামুল হকদের পারিবারিক দুটো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এনামুল ২৯ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানের ১৭ লাখ টাকা ইউসিবিএল ব্যাংকে জমা দিতে যান। ব্যাংকের সামনে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তাঁকে ছুরিকাঘাত করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়

এসপি বলেন, আটককৃত টিপু আরা ইন্টারন্যাশনাল (ফলের আড়ত) নামের ওই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন শ্রমিকের কাজ করতেন। মাঝেমধ্যেই এনামুল মোটরসাইকেলে করে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যান, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল। টিপু এ টাকা ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পাশের ফল ব্যবসায়ী রাজ্জাক ফকিরকে সঙ্গে নেন। রাজ্জাক অন্য অপরাধীদের এতে যুক্ত করেন।

এসপি আরও বলেন, ঘটনার সময় টিপু রাস্তার বিপরীত পাশ থেকে টাকা বহনকারী এনামুলকে তাঁর সঙ্গীদের চিনিয়ে দেন। এরপর ছিনতাইকারীরা এনামুলকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়।

গতকাল বিকেল থেকে আজ ভোর পর্যন্ত শহরের ধর্মতলা, বসুন্দিয়া আলাদিপুর, বারান্দী মোল্লাপাড়া, সিটি কলেজ ব্যাটারিপট্টি ও পুলিশ লাইন টালিখোলায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়। টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়ে যাওয়ায় তাঁদের কাছ থেকে স্বল্প টাকা উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়া ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি স্কুলব্যাগ ও দুটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলার আসামি।

ব্রিফিং থেকে বলা হয়েছে, ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী রাজ্জাক ফকির পিরোজপুরের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে পিরোজপুর ও যশোরে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনিও ওই এলাকায় ফলের ব্যবসা করতেন। এই রাজ্জাকসহ চিহ্নিত আরও দুজনকে আটকের চেষ্টা চলছে। তাঁদের কাছেই বাকি টাকা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকদার, তৌহিদুল ইসলাম ও গোলাম রব্বানী, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, ডিবির ওসি মারুফ আহম্মদ প্রমুখ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন