এ নিয়ে প্রথম আলোতে ‘যশোরে চা-নাশতার কথা বলে ৯৪ নার্সের প্রণোদনার কাটা কর্তন’ শিরোনামে প্রথম আলো অনলাইন ও পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হলে যশোর জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য ওই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দেন। এরপর নার্সদের ডেকে হাসপাতালের হিসাব শাখা থেকে কর্তন করা টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘প্রথম আলোতে এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে প্রতিমন্ত্রী টেলিফোন করে বিষয়টা জানতে চান। আমি মন্ত্রী মহোদয়কে জানিয়েছি, ‘‘চা-নাশতা বাবদ না; এজি (জেলা হিসাবরক্ষণ) অফিসে ৫ শতাংশ ও অভ্যন্তরীণ অডিটের সময় ৫ শতাংশ হারে ঘুষ দেওয়ার জন্য ওই টাকা কর্তন করা হয়েছে।’’ তিনি (প্রতিমন্ত্রী) নার্সদের ওই টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালের হিসাব শাখায় গিয়ে দেখা গেছে, নার্সদের ডেকে কর্তন করা দেড় হাজার টাকা করে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ২০ জনের টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

টাকা পেয়ে কয়েকজন নার্স বলেন, ‘প্রথম আলোতে প্রতিবেদন ছাপা না হলে কোনো দিনও কর্তন করা টাকা আমরা ফেরত পেতাম না। কর্তন করা টাকা ফেরত পাওয়াটা বড় কথা নয়; এটা একটা প্রতিবাদ হলো। বিনা রসিদে আমাদের কাছ থেকে প্রায় এভাবে টাকা কর্তন করা হচ্ছে। এই প্রতিবেদনটা খুবই দরকার ছিল। টাকা পেয়ে আমরা ভীষণ খুশি।’

যদিও ঘুষের অভিযোগ অস্বীকার করে গতকাল বুধবার জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেছিলেন, ‘এজি অফিসে কোনো ধরনের ঘুষ লেনদেন করা হয় না। যদি কেউ নিয়েও থাকে। তথ্য দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন