দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ও ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি শফিকুল ইসলামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। যশোর জেলা আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত। এর এক অংশের নেতৃত্বে সদর আসনের সাংসদ কাজী নাবিল আহমেদ ও অপর অংশের নেতৃত্বে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সাংসদ শাহীন চাকলাদার। যুবলীগের পদপ্রত্যাশী আনোয়ার হোসেন সাংসদ কাজী নাবিল আহমেদের ও শফিকুল ইসলাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

প্রত্যক্ষদর্শী ও যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ বেলা আড়াইটার দিকে আনোয়ার হোসেনের লোকজন মিছিল নিয়ে যশোরে আসা যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানাতে শহরের চিত্রা মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁরা পোস্ট অফিসপাড়ায় পৌঁছালে শফিকুল ইসলামের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। তাঁদের প্রাথমিকভাব যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আকিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আনোয়ার হোসেনের মিছিলে ছিলাম। পোস্ট অফিসের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার ডান পায়ের ঊরুতে চাকু মারেন।’

যশোর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে যশোরে যুবলীগের বর্ধিত সভা হচ্ছে। কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানোর জন্যে তাঁদের আবাসিক হোটেলের দিকে মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলাম। মিছিলটি পোস্ট অফিসপাড়ায় পৌঁছালে সাধারণ সম্পাদকের পদপ্রত্যাশী শফিকুল ইসলামের লোকজন আমাদের ওপর হামলা করেন। এতে আমার আট কর্মী আহত হয়েছেন।’

প্রতিপক্ষের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগের বিষয়ে শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা করা হলেও তিনি ধরেননি। এমনকি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে খুদে বার্তা দিলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, ‘চারজন টোকাই ছুরিকাহত হয়েছে। তাদের রাজনৈতিক কোনো পরিচয় আছে কি না, তা আমাদের জানা নেই। তারা নিজেদের মধ্যে গন্ডগোল করে ছুরি মারামারি করেছে। আহতদের মধ্যে একজন চিহ্নিত ছিনতাইকারী।’

কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দেওয়া কমিটি মানবে না তৃণমূল
দুপুর ১২টার দিকে যশোর শহরের সিসিটিএস মিলনায়তনে জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা শুরু হয়। সভায় যোগ দেওয়া তৃণমূলের নেতারা বলেন, ‘গঠনতন্ত্র মেনে জেলা যুবলীগের কমিটি দেওয়ার জন্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনো কমিটি তৃণমূলের নেতা–কর্মীরা মানবেন না। কারণ, ১৫ বছর ধরে যশোরে যুবলীগের কমিটি গঠন হচ্ছে না। এমনকি বর্ধিত সভাও হয়নি। ত্যাগী বঞ্চিত নেতাদের মূল্যায়ন করে কমিটি দিবেন বলে আমরা আশা করছি।’

সভায় যশোর জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘২০০৪ সালে সর্বশেষ যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৫ বছরের মধ্যে সম্মেলন হয়নি। কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দেওয়া কমিটি আমরা মানব না। আমরা যুবলীগের সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করতে চাই। হাউসের সবাই যদি একমত থাকেন, তাহলে হাত তোলেন।’

এ সময় মঞ্চে বসা যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আল সাইফুল জেলা যুবলীগ নেতাকে হাফিজুরকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, আপনি এই হাউসে এসব কথা বলছেন কেন? কোন পদ্ধতিতে যুবলীগের কমিটি গঠন হবে, তা নির্ধারণ করবেন একমাত্র কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ সোহেল উদ্দীন। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল। জেলা যুবলীগের সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আনোয়ার হোসেন, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিরুল ইসলাম চাকলাদার, সহসভাপতি সৈয়দ মনির হোসেন ও সৈয়দ মেহেদী হাসান, সাংগঠিক সম্পাদক মঈনুদ্দিন মিঠু প্রমুখ।

কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশে স্থানীয় নেতারা বলেন, ‘আমাদের আর্থিক কষ্ট রয়েছে। আপনাদের আমরা ঠিকমতো আপ্যায়িত করতে পারি না। আপ্যায়নের দিকে না তাকিয়ে প্রকৃত ত্যাগী নেতা–কর্মীদের মূল্যায়ন করে আগামী দিনে কমিটির নেতা বানাবেন।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন