যশোরে স্কুলে গোলাপ আর চকলেটে শিক্ষার্থীদের বরণ

১৮ মাস পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত শিক্ষাঙ্গন। সহপাঠীদের সঙ্গে অনেক দিন পর দেখা হওয়ার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ছবি তুলছে শিক্ষার্থীরা। সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, যশোর
ছবি : এহসান-উদ-দৌলা

যশোরে গোলাপ ফুল ও চকলেট দিয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয়েছে। করোনা অতিমারির মধ্যে ১৮ মাস পর শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে যশোরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আজ রোববার সকালে যশোর ইনস্টিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বরণের এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মাস্ক পরে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আসে। তারা বিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে রাখা জীবাণুনাশকে পা মোছে। তাদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয়। পরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে সবাই শ্রেণিকক্ষে যায়। কক্ষে এক বেঞ্চে একজনকে বসানো হয়। বিদ্যালয় ছুটির সময় শিক্ষার্থীদের হাতে চকলেট তুলে দেওয়া হয়।

প্রধান শিক্ষক সৈয়দা শিরিন সুলতানা বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রথম দিনে তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান করা হয়েছে। প্রথম দিনে তৃতীয় শ্রেণির ২৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৪৪ এবং পঞ্চম শ্রেণির ১৬০ জনের মধ্যে ১০৪ জন বিদ্যালয়ে এসেছে। অভিভাবকদের কাউকে বিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’

বিদ্যালয়ের বাইরে টাউন হল মাঠে অভিভাবকদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। তাঁরা গাদাগাদি করে পাশাপাশি বসে গল্প করছিলেন। তবে ছিলেন মাস্ক পরে।

এদিকে যশোর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের হাতে ফুল ও চকলেট তুলে দিয়ে শিক্ষকেরা তাদের বরণ করেছেন। বিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে শিক্ষকেরা দাঁড়িয়ে থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে গোলাপ ফুল ও চকলেট তুলে দেন। শিক্ষকদের এই ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে শ্রেণিকক্ষে বসে শিক্ষার্থীরা।

যশোর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় সাজানো হয়েছে বেলুন দিয়ে। বিদ্যালয়ের ফটকে দাঁড়িয়ে ছিলেন শিক্ষক ও কর্মচারীরা। অভিভাবকেরা সন্তানদের প্রধান ফটকে পৌঁছে দিয়ে বাইরে অপেক্ষা করেন। মাস্ক পরা শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পৌঁছালে তাদের তাপমাত্রা মাপা হয়। এরপর তাদের সামনে চকলেটের ডালা ধরা হয়। সেখান থেকে তারা চকলেট তুলে নেয়। এ সময় যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর স্কুল–কলেজ খুলেছে। সরকারের যে নির্দেশনা রয়েছে, সেটা মেনেই যশোরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে করোনা সংক্রমণের হার একেবারেই কম বলে কোনো সমস্যা হবে না।’