বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সালাউদ্দিন আহমেদ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় কমতে শুরু করেছে। সকালে কিছুটা ভিড় থাকলেও বেলা একটার পর ঘাটের সংযোগ সড়কে ফেরিতে ওঠার জন্য খুব অল্পসংখ্যক যানবাহন লাইনে ছিল। লাইনে শতাধিক ছোট-বড় গাড়ি আর কয়েক শ মোটরসাইকেল আছে। তবে ঘাট এলাকায় তীব্র রোদ থাকায় গরমে সবাই কষ্ট পাচ্ছেন। যাত্রীরা অসুস্থ হলে তাদের সেবা দেওয়ার জন্য ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবাকেন্দ্র চালু আছে।

ফেরিঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষমাণ গাড়ির যাত্রী মিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দুপুর ১২টায় ঘাটে এসে সিরিয়াল দিয়েছি। ঘাটে ভিড় কিছুটা কম। আশা করছি, বেলা দুইটার মধ্যেই পদ্মা পার হয়ে যাব। কিন্তু গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে শরীরের অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।’

default-image

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক যাত্রী মাহফুজ আহমেদ বলেন, প্রচণ্ড রোদ। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। লাইনে দাঁড়িয়ে ভিড়ের মধ্যে নারী ও শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। ঢাকায় পৌঁছাতে পারলে শান্তি পাবেন বলে জানান।

লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাত্রীদের চাপ কমেনি

ফেরিতে যানবাহনের চাপ কম থাকলেও লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাত্রীদের চাপ দেখা গেছে। ঢাকাগামী যাত্রীদের চাপ থাকায় ১০ মিনিটের মাথায় একেকটি লঞ্চ বাংলাবাজার লঞ্চঘাট থেকে ছেড়ে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে শিমুলিয়া থেকে লঞ্চ আসার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। স্পিডবোট ঘাটেও একই অবস্থা। যাত্রী নামিয়ে বোট ফিরে আসার অপেক্ষায় স্পিডবোট ঘাটেও যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় অব্যাহত আছে।

খুলনা থেকে আসা ঢাকাগামী যাত্রী তাহমিনা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঈদ উদ্‌যাপন শেষে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় হচ্ছে শুনে গত দুই দিন রওনা দেওয়ার সাহস পাইনি। তাই আজ পরিবার নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি। তবে আমাদের তেমন লাভ হয়নি। আজও লঞ্চ, স্পিডবোটে ভিড় ছিল। আমরা ভিড় ঠেলে লঞ্চে উঠেছি। ভেতরে বসার জায়গাও পাইনি।’

default-image

বরিশাল থেকে আসা লঞ্চের আরেক যাত্রী ইমন আহমেদ বলেন, ‘ঈদে ভিড় বাড়লেই অলৌকিকভাবে ভাড়াও বাড়ে। লঞ্চে ৪৫ টাকার ভাড়া ৬০ টাকা আর স্পিডবোটে ১৫০ টাকার ভাড়া ২০০, কখনো–বা ৩০০ টাকা করে নিচ্ছে। ভিড় থাকায় যাত্রীদের জিম্মি করে বেশি ভাড়া আদায় করলেও প্রশাসন তাঁদের কিছুই বলছেন না।’

বাংলাবাজার ঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক আক্তার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সকাল থেকেই লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাত্রীদের কম–বেশি চাপ আছে। ধারণক্ষমতা অনুযায়ী, যাত্রীদের নৌযানে ওঠানো হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া নিলে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের চাপ বেশি হলে দ্রুততার সঙ্গে লঞ্চ ও স্পিডবোট ঘাট ছেড়ে যাচ্ছে। শিমুলিয়া প্রান্তে যাত্রী নামিয়ে আবার লঞ্চ বাংলাবাজার ঘাটে ফিরে আসছে। গরমের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন