default-image

নরসিংদীতে ছগির মিয়া (২৬) নামের এক চালককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সময় এক নারীসহ দুজনকে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। পরে তাঁদের দুজনকে আহত অবস্থায় নরসিংদী মডেল থানার টহলরত পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার শীলমান্দী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় গতকাল গভীর রাতে দুজনের নাম উল্লেখসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে নরসিংদী মডেল থানায় মামলা করেছেন আহত অটোরিকশাচালক ছগির মিয়ার ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী। ছগির মিয়া নরসিংদীর মাধবদীর খিলগাঁও এলাকার মোহাম্মদ জাকারিয়ার ছেলে।

পুলিশে সোপর্দ করা দুজন হলেন নরসিংদীর মাধবদীর বালুসাইর এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে হামিদা আক্তার (২২) ও আলগী এলাকার ইউসুফ মিয়ার ছেলে মো. আল আমিন (২২)। মামলা হওয়ার পর আটক এই দুজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, গতকাল রাত সোয়া ৮টার দিকে মাধবদী ফায়ার সার্ভিসের সামনে থেকে অসুস্থ এক রোগীকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে ছগির মিয়ার অটোরিকশায় ওঠেন এক নারীসহ পাঁচজন। নরসিংদী-মাধবদী আঞ্চলিক সড়কটির ৫ নম্বর ব্রিজ এলাকার একটি নির্জন স্থানে আসার পর অটোরিকশাটিকে থামাতে বলা হয়। এ সময় অটোরিকশাটি থামালে চালক ছগির মিয়ার বাঁ হাতে চাপাতি দিয়ে কোপ দিয়ে তাঁকে রাস্তার পাশে ফেলে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা। পেছন থেকে আসা দুটি মোটরসাইকেলের কয়েকজন আরোহী ছগিরকে উদ্ধার করেন এবং অটোরিকশাটির পেছনে ধাওয়া করে নরসিংদী নতুন বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় তাঁদের পাঁচজনকে ধরে ফেলেন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে তাঁদের পিটুনি দেন। এর মধ্যে তিনজন পালিয়ে যান। বাকি দুজনকে ওই সড়কে টহলরত পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় জনতা। গুরুতর আহত অবস্থায় ছগির মিয়াকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, ছগির মিয়ার বাঁ হাতের ওপরের অংশে ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল।

নরসিংদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আতাউর রহমান বলেন, যাত্রীবেশে অটোরিকশা ছিনতাই করতে এসেছিলেন পাঁচজন। তাঁদের দুজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। তাঁদের কাছ থেকে রক্তমাখা একটি চাপাতি জব্দ করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া অন্য তিনজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন