বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বরিশাল নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার এ বন্দর থেকে ১২টি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়। লঞ্চগুলো হলো অ্যাডভেঞ্চার-১, সুরভী-৭ ও ৮, প্রিন্স আওলাদ-১০, পারাবত-৯, ১০ ও ১২, সুন্দরবন-১০ ও ১১, মানামী ও কুয়াকাটা-২। বেলা তিনটার পর থেকেই ডেকের যাত্রীরা লঞ্চে আসতে শুরু করেন।

সুরভী লঞ্চের কলম্যান কবির খান বলেন, শুক্রবারের চেয়ে শনিবার যাত্রী আরও বেশি। দুপুর থেকেই যাত্রীদের ঢল নেমেছে। সন্ধ্যার আগেই সব কটি লঞ্চের কেবিনে অধিকাংশ যাত্রী লঞ্চে উঠে পড়েন। তাঁরা লঞ্চ ছাড়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। চারতলা লঞ্চগুলোর ডেক, কেবিনের করিডোর সব খানেই ছিল যাত্রীতে ঠাসা।

গতকাল শুক্রবার যাত্রীপূর্ণ হওয়ায় ১৩টি লঞ্চ নির্ধারিত সময়ের অন্তত এক ঘণ্টা আগে ঢাকার উদ্দেশে বরিশাল ঘাট ত্যাগ করে। ফলে অধিকাংশ কেবিনের যাত্রী শুক্রবার লঞ্চ ধরতে পারেননি। ওই রকম দুর্ভোগে যাতে পড়তে না হয় সে জন্য দুপুরের পরই লঞ্চে এসে কেবিনে অবস্থান নিয়েছেন।

প্রিন্স আওলাদ-১০ লঞ্চের যাত্রী জহিরুল হক বলেন, ঈদের পর যাত্রীদের ভিড়, তাই লঞ্চগুলো আগেভাগেই ঘাট ত্যাগ করে। এ জন্য সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে কেবিনে উঠে অবস্থান নিয়েছেন।

এদিকে লঞ্চগুলোয় অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে কি না, এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বন্দরে অবস্থান করতে দেখা গেছে। শুক্রবার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের দায়ে ৩টি লঞ্চকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছিল। এ সময় অতিরিক্ত যাত্রীদের লঞ্চ থেকে নামিয়েও দেওয়া হয়েছিল। এরপর ওইসব লঞ্চ বন্দর ত্যাগ করতে বাধ্য করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা ও বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, রোভার স্কাউট, নৌ পুলিশ ও আনসারদের নিয়ে নৌবন্দরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা হচ্ছে। কোনো লঞ্চে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে না পারে সে জন্য জেলা প্রশাসনের দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বন্দরে তদারকি করছেন। তাঁরা সার্বক্ষণিক বিষয়টি নিয়ন্ত্রণকক্ষে বসে নজরদারি করছেন। কোনোভাবেই লঞ্চগুলোকে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে দেওয়া হবে না।

এদিকে লঞ্চের তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সিট–বাণিজ্যের কারণে। শনিবার দুপুরে বরিশাল নদীবন্দরে নোঙর করা লঞ্চগুলো ঘুরে দেখা যায়, লঞ্চের স্টাফরা ডেকের মেঝেতে চাদর ও তোশক বিছিয়ে রেখেছেন। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, স্টাফদের বিছিয়ে রাখা চাদর ও তোশকের জায়গা নিতে হলে তাঁদের ২০০-৩০০ টাকা দিয়ে জায়গা কিনে নিতে হচ্ছে। এতে তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

বাকেরগঞ্জের যাত্রী আল আমিন ঢাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। দুই ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে দুই বছর পর ঈদে এবার বাড়িতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, লঞ্চে উঠে নিজের ইচ্ছামতো জায়গা নিতে গিয়ে দেখেন সব জায়গায় চাদর বিছানো। পরে আলাপ করে জানতে পারেন, সিট কিনতে হবে। বাধ্য হয়ে ২০০ টাকা দিয়ে ৪ জনের সিট কিনেছেন। এরপর জনপ্রতি ভাড়া তো আছেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন