বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা খরচ করতে পারবেন। তবে ভোটাররা বলছেন, কোনো কোনো প্রার্থীর খরচ হয়তো কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সাধারণ সদস্য প্রার্থীরাও অনেক খরচ করছেন।

রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষক আবদুস সামাদ বলেন, প্রার্থীরা মূলত এলাকার রাস্তাঘাট, মসজিদ, মন্দিরের উন্নয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নামে লাখ লাখ টাকা অনুদান দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে ব্যক্তি, গোষ্ঠীর মাঝেও টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। আবদুস সামাদ বলেন, ভোটাররা জানেন, নির্বাচনের পর তাঁদের (প্রার্থী) পাওয়া যাবে না। তাই তাঁরাও সুবিধা নিচ্ছেন।

লন্ডনে বসবাসরত এক প্রার্থীর পক্ষে ১৩ জন প্রবাসী দেশে এসে কাজ করছেন। যাঁরা দেশে আসতে পারেননি, তাঁরা বলছেন, টাকার খেলায় পরাজিত হওয়া যাবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চিলাউড়া হলদিপুরের এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর ঘনিষ্ঠজন বলেছেন, মনোনয়নপত্র জমার পর থেকে দেড় কোটি টাকা বাজেট ধরে মাঠে তাঁদের কাজ চলছে। লন্ডনে বসবাসরত ওই প্রার্থীর পক্ষে ১৩ জন প্রবাসী দেশে এসে কাজ করছেন। যাঁরা দেশে আসতে পারেননি, তাঁরা বলছেন, টাকার খেলায় পরাজিত হওয়া যাবে না। লাগলে আরও টাকা পাঠাবেন।

সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা রেজওয়ান কুরেশি বলেন, তাঁদের ইউনিয়নে পাঁচজন প্রার্থীর সবাই প্রবাসী। টাকার খেলায় কেউ কারও চেয়ে কম নন। শেষ মুহূর্তে সম্মানজনক ভোট পেতে সবাই মরিয়া হয়ে টাকা খরচ করছেন।

চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, পাঁচজনের মধ্যে তিনি ছাড়া বাকিরা প্রবাসী। তাঁর কোনো স্বজনও দেশের বাইরে থাকেন না। তিনি এর আগে চারবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। প্রতিবারই পরাজিত হয়েছেন। শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রবাসীদের কালোটাকার খেলার কাছে পরাজিত হয়েছি।’

প্রার্থীদের টাকা খরচের কথা শুনেছেন জগন্নাথপুর উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা মুজিবুর রহমানও। তিনি বলেন, লোকমুখে প্রার্থীদের টাকা খরচের কথা শুনেছেন। কিন্তু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাননি। তাই কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন