বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন, উপজেলা যুবদলের সাবেক কমিটির সহসভাপতি আব্বাস উদ্দিন, মোতাহের হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক শামীম মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক রানা আহমেদ, সরাইল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ খন্দকার প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল আলম বলেন, জেলা সদরে বসবাসকারী চাকরিজীবী আবু সুফিয়ান সিদ্দিকীকে আহ্বায়ক, আওয়ামী লীগের সহযোগী শিক্ষক সংগঠন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের উপজেলা কমিটির সাবেক সদস্যসচিব নুরুল আমিনকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির ছেলে নূর আলমকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

নাজমুল আলম বলেন, ‘২০১৪ সালে আমাকে সভাপতি ও জহিরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ৪১ সদস্যের উপজেলা যুবদলের কমিটি করা হয়েছিল। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আমাদের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ওই দিন জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে উপজেলা সদরে কর্মিসভা হয়। ওই সভায় আমাকে আহ্বায়ক ও সৈয়দ ইসমাইল হোসেনকে সদস্যসচিব করে ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি জেলার মাধ্যমে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব নুরুজ্জামান লস্কর ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমানের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে জেলা কমিটির সুপারিশকে পাশ কাটিয়ে তিন সদস্যের কমিটি প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় কমিটি। আমরা এই কমিটি মানি না।’

পরে পদবঞ্চিত নেতারা তিন সদস্যের কমিটির প্রতিবাদে সরাইল-অরুয়াইল সড়কের উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। প্রাতবাজার এলাকায় গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়। সেখানে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মুরতাজুল করিমের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এ সময় সড়কের দুই পাশে বেশ কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উপজেলা কমিটি অনুমোদন করে জেলা কমিটি। কিন্তু এখানে টাকার বিনিময়ে কেন্দ্রের মাধ্যমে আংশিক কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি। এলাকার সঙ্গে তিনজনের কোনো যোগাযোগ নেই। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁদের মেনে নেবেন না। তাঁদের দিয়ে যুবদলের নেতৃত্ব চলতে পারে না।’

সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি কখনোই আওয়ামী লীগ কিংবা এর কোনো সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। এখনো নেই। এসব অভিযোগ মিথ্যা। এটা আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র।’

আবু সুফিয়ান সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি চাকরি করি না। জেলা সদরে আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে, তবে আমি এলাকাতেই থাকি। এলাকার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ রয়েছে।’

অভিযোগ সম্পর্কে নুরুজ্জামান লস্কর প্রথম আলোকে বলেন, যুবদল বিএনপির একটি অঙ্গসংগঠন। উপজেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। সেখানে আমাদের কোনো হাত নেই। আমাদের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে কমিটি দেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা নাজমুল আলম খন্দকার ও সৈয়দ ইসমাইল হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৩১ সদস্যের কমিটির প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু তা অনুমোদিত হয়নি। আমরা শুনেছি, পরবর্তী সময়ে নানাভাবে প্রভাব খাটিয়ে অন্যদের দিয়ে আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন