default-image

বরগুনার আলোচিত যুবলীগ কর্মী শামীম ইমতিয়াজ বাদশা হত্যা মামলায় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইয়াসির আরাফাত হত্যা মামলাটির অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এই আদেশ দেন।

সিদ্দিকুর রহমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ভায়রা ও সদরের বুড়িরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত এই হত্যা মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গত ৭ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিল। মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ১৪ আসামির মধ্যে ৫ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। এক নারী আসামি স্থায়ী জামিনে আছেন। দুজন আসামির জামিনের মেয়াদ শেষ হলে মঙ্গলবার শুনানিতে হাজির হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাকি ছয় আসামির নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন মহসিন সরদার, জাকারিয়া, আল-আমিন গাজী, রাকিব সরদার, সাবু সরদার, সাবু ফকির, মতলেব সরদার, আল-আমিন আকন, মাহবুব সরদার, নাসরিন বেগম, সেয়ারা বেগম, আল আমিন গাজী ও মাহতাব সরদার। নিহত ইমতিয়াজ বুড়িরচর ইউনিয়নের সোহরাব মৃধার ছেলে।

আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমি হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। এখন কিছুটা আশার আলো দেখছি। মনে হচ্ছে সন্তান হত্যার সুবিচার পাব
সোহরাব মৃধা, মামলার বাদী ও নিহত শামীম ইমতিয়াজের বাবা

পুলিশ জানায়, ২০১৯ সালের ৮ জানুয়ারি রাত আটটার দিকে শামীম ইমতিয়াজকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের কামড়াবাদ এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরের দিন ৯ জানুয়ারি নিহত বাদশার বাবা সোহরাব মৃধা ১২ জনের নাম উল্লেখ করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞাপন

এই হত্যা মামলা প্রথম তদন্ত করেন বরগুনা সদর থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম। তাঁর বদলি হওয়ার কারণে মামলাটির তদন্ত দায়িত্ব সিআইডিকে দেওয়া হয়। তৎকালীন সিআইডির পরিদর্শক জুলফিকার প্রায় এক বছর তদন্ত করে ও অভিযোগপত্র দিতে পারেননি। পরে তদন্তভার পান সিআইডির আরেক পরিদর্শক সেলিম সরদার। তিনি তদন্ত শেষ করে ৭ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগ রয়েছে, মহসিন নামের এক যুবকের সঙ্গে ইমতিয়াজের বাবা সোহরাব মৃধার কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় সোহরাব মৃধাকে মারধর করেন মহসিন ও তাঁর সহযোগীরা। বাবাকে মারধরের প্রতিবাদ করায় মহসিনের লোকজন মিলে ইমতিয়াজকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় বাদশা দৌড়ে পাশের অটোরিকশাস্ট্যান্ডে যান এবং মুঠোফোনে তাঁর বাবাকে সবকিছু জানান। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় ইমতিয়াজকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাদশাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলার বাদী সোহরাব মৃধা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি সন্তান হত্যার সুবিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমি হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। এখন কিছুটা আশার আলো দেখছি। মনে হচ্ছে সন্তান হত্যার সুবিচার পাব।’ তিনি বলেন, আসামিদের স্বজনেরা তাঁকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তিনি এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মোস্তফা কাদের প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে জানতে বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন