default-image

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের টানা দুবারের কাউন্সিলর সাইফুল বিন জলিল  মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রোকন উদ্দিনের ওপর গাড়ি তুলে দিয়ে তাঁকে জখম করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটায় কুমিল্লা নগরের ছাতিপট্রি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর পুলিশ কাউন্সিলর সাইফুলকে সন্ধ্যায় নগরের কাসারিপট্রি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তিনি দা নিয়ে বের হন। পরে পুলিশের সঙ্গে সড়কের মধ্যে ধস্তাধস্তি করেন। একপর্যায়ে তিনি সড়কে শুয়ে পড়েন। পরে তাঁকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় রোকন বাদী হয়ে গতকাল সকালে কোতোয়ালি মডেল থানায় সাইফুলকে প্রধান আসামি করে আটজনের নামে একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। এই মামলায় গতকাল বিকেলে সাইফুলকে কুমিল্লার আদালতে নেওয়া হয়। আদালতের বিচারক তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা সাড়ে তিনটায় নগরের ছাতিপট্রি অজিতগুহ মহাবিদ্যালয় এলাকায় মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় রোকনের পায়ের ওপর গাড়ি তুলে দেন সাইফুল। এতে রোকনের দুই পা থেঁতলে যায়। রোকন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। তাঁর ডান পাশের পায়ের অবস্থা খারাপ। পরে পুলিশ নগরের কাসারিপট্রি এলাকা থেকে গতকাল সন্ধ্যায় সাইফুলকে আটক করতে যায়। এ সময় সাইফুল তাঁর আস্তানা থেকে দা হাতে নিয়ে বের হন। একপর্যায়ে পুলিশ তাঁকে ধরতে যায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয়। এ–সম্পর্কিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

বিজ্ঞাপন

এলাকার অন্তত তিন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে বিএনপির সমর্থন নিয়ে সাইফুল ও আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে রোকন অংশ নেন। ওই নির্বাচনে সাইফুল জয়ী হন। এরপর থেকে দুই নেতার মধ্যে এলাকায় বিরোধ চলছে। সম্প্রতি চকবাজার বাস টার্মিনালে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সাইফুলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি অংশের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে সাইফুল ৫ মার্চ সংরক্ষিত মহিলা সাংসদ ও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আঞ্জুম সুলতানার হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

এখন আঞ্জুম সুলতানার অনুসারী সাইফুল। আর রোকন ছাত্রলীগ থেকেই কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর) আসনের সাংসদ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিনের অনুসারী।

রোকন বলেন, ‘আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ওপর গাড়ি তুলে দেওয়া হয়। আমি এর বিচার চাই।’

মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক জি এস সহিদ বলেন, ‘সাইফুল এলাকার মসজিদের ইমামকে পিটিয়ে জখম করেন। এরপর দা দিয়ে এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে থাকেন। একপর্যায়ে গতকাল রোকনের ওপর গাড়ি তুলে দেন। আমরা এর বিচার চাই।’

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল হক বলেন, ‘রোকনের ওপর গাড়ি তুলে দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা ভিডিও দেখেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। কাউন্সিলর সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, সাইফুল কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল হকের (সাক্কু) ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। সাইফুলের বাবা আবদুল জলিল ১৯৭৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৮২ সালের ১৫ মে পর্যন্ত কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান (বর্তমানে মেয়র) ও কুমিল্লা শহর বিএনপির সভাপতি ছিলেন। সাইফুল ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি ও ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে টানা দুবার বিএনপির সমর্থন দিয়ে কাউন্সিলর হন। তাঁর মা মনোয়ারা বেগম জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কুমিল্লার সদস্য ও কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির সাবেক সহসভাপতি ছিলেন।

মেয়র মো. মনিরুল হক বলেন, ‘গত কয়েক দিন ওর (সাইফুল) মধ্যে অস্থিরতা দেখা গেছে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগেও যোগ দিয়েছে। কী বলব?’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন