default-image

গাজীপুরে এক যুবলীগ নেতার দখল থেকে কোটি টাকা মূল্যের এক একর বনভূমি উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। উদ্ধারকৃত বনভূমিতে মাছের খামার গড়ে তুলেছিলেন তিনি। আজ মঙ্গলবার সকালে মাছের খামারে ভেকু মেশিন (এক্সাভেটর) দিয়ে মাটি ভরাট করে দেয় বন বিভাগ।

ঢাকা বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের গাজীপুর ভাওয়াল রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজল তালুকদার ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শ্যামল কুমার ঘোষ।

ভাওয়াল রেঞ্জের বন কর্মকর্তারা বলেন, গাজীপুরের ভবানীপুর বিটে বনভূমিতে মাটি খনন করে মাছের খামারের নির্মাণকাজ শুরু করেন মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাইয়ুম সরকার ও তাঁর লোকজন। পরে প্রাথমিক পর্যায়ে সীমানা নির্ধারণ ব্যতীত পুকুরের খননকাজে বাধা দেন ভবানীপুর বিট কর্মকর্তা। আদেশ না মেনে তাঁরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে খামারের নির্মাণকাজ চালিয়ে যান। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশ ও উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিজ্ঞাপন

সহকারী বন সংরক্ষক শ্যামল কুমার ঘোষ বলেন, কাইয়ুম সরকার বনে ছয়টি পুকুর খনন করেন। সম্প্রতি নতুন তিনটি পুকুরের খননকাজ শুরু করেন। অভিযানের আগে সার্ভেয়ার দিয়ে তাঁর দখলে থাকা এক একর বনভূমি চিহ্নিত করা হয়। পরে উচ্ছেদের প্রথম পর্যায়ে ৫০ শতাংশ বনভূমিতে বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ রোপণ করা হয়। উদ্ধারকৃত বনভূমির বর্তমান বাজার মূল্য অন্তত এক কোটি টাকা।

অভিযানে অন্যদের মধ্যে ঢাকা বন বিভাগের গাজীপুর শ্রীপুর সদর বিট কর্মকর্তা সজীব কুমার মজুমদার, ভাওয়াল ও জাতীয় উদ্যান রেঞ্জের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে জয়দেবপুর থানা-পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করে।

জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা কাইয়ুম সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘বন বিভাগের অভিযানের কথা শুনেছি। আমি কখনোই বন বিভাগের এক শতাংশ জমিও দখল করিনি। সরকারি জমি দখলে রাখার প্রশ্নই আসে না। ওই মৌজায় আমার ১৫ বিঘা জমি আছে। আমার জমির সঙ্গে বন বিভাগের জমি আছে। আমার জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য দুই বছর ধরে ঘুরছি। বন বিভাগ আমার জমিটির সীমানা নির্ধারণ করে তাদের কাছ থেকে অবমুক্ত করে দিচ্ছে না।’

ভাওয়াল রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, কাইয়ুম সরকার কৌশল করে বনের জমির সঙ্গে কিছু জমি কিনে বনভূমি নিজের দখলে নিয়ে যান। বনভূমি উদ্ধার শেষে সেখানে নতুন করে গাছ লাগিয়ে দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন