default-image

ভোলার মনপুরা উপজেলায় মৎস্য আড়তের শ্রমিককে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা যুবলীগ নেতা তাঁকে পিটিয়ে জখম করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ভোলার একটি পত্রিকার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আহত শ্রমিক মো. আলাউদ্দিন (৪৫) এ অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে আলাউদ্দিন বলেন, মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট মাছঘাটের মতিন হাজির মাছের আড়তে ১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করছেন তিনি। এক বছর আগে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল মাতব্বরের মাছের আড়তে ১০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। বেতন বাড়াতে বললে বাবুল তাঁকে গালিগালাজ করেন। এ কারণে তিনি সম্প্রতি উপজেলা যুবলীগ নেতার আড়ত ছেড়ে দিয়ে মতিন হাজির মৎস্য আড়তে চাকরি নেন। এতে বাবুল মাতব্বর ক্ষুব্ধ হন। বাবুল ও তাঁর ভাইয়েরা মিলে ৯ ফ্রেব্রুয়ারি রাত সাড়ে আটটার দিকে আলাউদ্দিনকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করেন। পরে আড়তদার মতিন হাজি ও তাঁর লোকজন আলাউদ্দিনকে উদ্ধার করে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সেখান থেকে তিনি আজ সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন।

বিজ্ঞাপন

আলাউদ্দিন অভিযোগ করেন, কিলঘুষি, লাথি মেরে আহত করার সময় তাঁর বিরুদ্ধে কোস্টগার্ডের কাছে জাটকা ধরিয়ে দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়। এতে নাকি যুবলীগ নেতা বাবুল মাতব্বরের আট লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সেই টাকাও পরিশোধ করার হুমকি দিচ্ছেন বাবুল। এ ঘটনায় তিনি মনপুরা থানায় মামলার জন্য লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল মাতব্বর বলেন, আলাউদ্দিনকে চুরির দায়ে তাঁকে আড়ত থেকে বের করে দিয়েছেন। সেই ক্ষোভে গোপনে কয়েকবার তাঁর জাটকা কোস্টগার্ডের হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন। এতে তাঁর ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে আলাউদ্দিনকে তিনি চার থেকে পাঁচটি থাপ্পড় দিয়ে সতর্ক করেছেন মাত্র, অন্য কিছু নয়।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে মামলা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন