default-image

কুমিল্লায় যুবলীগ নেতা জিল্লুর রহমান চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুমিল্লা-৬ আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিনের অনুসারী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারা। তাঁরা এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত করে মূল ঘাতকদের চিহ্নিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডকে ‘বেদনাদায়ক ও ঘৃণ্য’ উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান।

আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লা ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এই অভিযোগ করা হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তারিকুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর আল আমিন সাদী ও কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান।

১১ নভেম্বর সকাল সাতটায় কুমিল্লা নগরের পুরান চৌয়ারা বাজার এলাকায় যুবলীগ নেতা ও গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী জিল্লুর রহমান চৌধুরীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় ১২ নভেম্বর সকালে নিহতের ছোট ভাই ইমরান হোসাইন চৌধুরী বাদী হয়ে ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেন। এই মামলায় সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ও আদর্শ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমেদ নিয়াজ পাভেলকেও আসামি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারিকুর রহমান বলেন, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সময় (১১ নভেম্বর) মহানগর আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর নানা আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়। এ ছাড়া মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ও আদর্শ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমেদ নিয়াজ পাভেলকে এই হত্যাকাণ্ডে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়িয়েছে, যা অবশ্যই নিন্দনীয়।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আফজল খান, তাঁর মেয়ে সংরক্ষিত নারী সাংসদ ও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আঞ্জুম সুলতানা, আফজল খানের বড় ছেলে মাসুদ পারভেজ খান ইমরান, ছোট ছেলে নাসরুল্লাহ খান ওরফে আরমান খান সম্পর্কে বিষোদ্‌গার করা হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘আফজল খান ও তাঁর ছেলে-মেয়ে খুনি এবং সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা। বিগত সময়ে তাঁরা বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। আমরা সন্দেহ করছি হত্যা মামলা সৃষ্টি করে রাজনীতির ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় কেউ এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে।’

কারা হত্যার রাজনীতি ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তা কুমিল্লাবাসী জানেন। কারা শহরে আতঙ্ক তৈরি করছে। কারা নগরবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে, মানুষ সব জানে।
আঞ্জুম সুলতানা, সংরক্ষিত নারী সাংসদ

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে সকাল সাড়ে সাতটায়। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিত্সকেরা মৃত ঘোষণার পর প্রায় সঙ্গে সঙ্গে কান্দিরপাড়ে ইমরান খানের (আফজল খানের বড় ছেলে মাসুদ পারভেজ খান) নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক ডিজিটাল ব্যানারসহ একটি মিছিল করেন। এতেই বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত বলে প্রতীয়মান হয়। মামলা দায়েরের প্রায় ১৪ ঘণ্টা আগে আঞ্জুম সুলতানা ও ইমরান খান প্রকাশ্যে মিডিয়ার সামনে মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মাহমুদের নাম উল্লেখ করে নানা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ ও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আঞ্জুম সুলতানা বলেন, ‘আমি কাকে হত্যা করেছি বলুক। আমার বিরুদ্ধে কোনো স্পট থাকলে বলুক ওরা। আফজল খান তো এখন রাজনীতিতে নেই। তাঁকে টেনে কী ফায়দা নিতে চায়? জিল্লুরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে কারা? কারা হত্যার রাজনীতি ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তা কুমিল্লাবাসী জানেন। কারা শহরে আতঙ্ক তৈরি করছে। কারা নগরবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে, মানুষ সব জানে।’ আঞ্জুম সুলতানা জানান, তিনি বাবার (আফজল খান) চেকআপ করাতে ঢাকায় এসেছেন। কুমিল্লায় ফিরে এসে সবাইকে নিয়ে বসে এর জবাব দেবেন।

মন্তব্য পড়ুন 0