বাড়ির সামনে লিচুবাগানে বসে রকিবের সঙ্গে কথা হয়। কেন তিনি সবকিছু ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, জানতে চাইলে তিনি একটু চুপ হয়ে যান। পরে বলেন, জীবনে অনেক কষ্ট, দুঃখ ও হতাশা ছিল। শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্ত্রী মানসিক নির্যাতন চালাতেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। বাবার বাড়িতে পারিবারিক কলহ হয়। চাকরি চলে যাওয়ায় তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এসব কিছু থেকে তিনি নিজেকে আড়াল করতে চেয়েছিলেন।

১৯৯৪ সালে জন্ম নেওয়া রকিবুজ্জামান দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছিলেন। প্রথম বিয়ের তিন দিন পর বিচ্ছেদ হয়ে যায়। দ্বিতীয় বিয়ে হয় শ্যামলী খাতুনের সঙ্গে। এই সংসার করতে গিয়ে তিনি জীবনে ক্ষতির মুখে পড়েন বলে দাবি করেন। বাবার বাড়িতে ছোট ভাই একবার মেরেছিল। তখন বাড়ি থেকে বের হয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ওঠেন। গাংনী শহরের শিশিরপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। স্ত্রীর পরিবার থেকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো বলে তাঁর দাবি।

স্বজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার সময়ের বর্ণনা দিয়ে রকিব বলেন, তখন ৮ হাজার টাকার একটা চাকরি করতেন। সেটা চলে যায়। সংসার চালাতে গিয়ে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে যান। নিজের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে তিনি সবাইকে ছেড়ে দূরে কোথাও চলে যাওয়ার কথা ভাবেন। নিজের মোটরসাইকেল ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে ঢাকায় চলে যান। ঢাকা থেকে স্ত্রী শ্যামলী খাতুনকে ফোনে বলেন তাঁকে ভুলে যেতে। এরপর তিনি মোবাইল বন্ধ করে নতুন জীবন শুরু করেন। নিজের নাম-ঠিকানা পরিবর্তন করে তিনি গাজীপুরে চাকরি নেন। সেখানে নতুন করে সংসার শুরু করেন।

কখনো বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন কি না, জানতে চাইলে রকিব দাবি করেন, ‘কথা বলতে মন চাইত, কিন্তু বলিনি। জীবনে হতাশা থেকেই সব বিসর্জন দিয়েছিলাম। মনে রেখেছি, আমি মৃত। মৃত মানুষের জীবনে অতীত থাকে না।’

পরিবারের লোকজন রকিবকে আজ ঢাকায় নিয়ে যাবেন বলে তিনি জানান। তাঁর ভাষ্য, তৃতীয় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে আবার গ্রামে ফিরবেন। নতুন করে জীবন শুরু করবেন। জীবনে ভুল করেছিলেন স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি অনুতপ্ত। গতকাল রাতে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়েছিলাম। রাতে একসঙ্গে খাবার খেয়েছি। এত ভালো আগে কখনো লাগেনি।’

রকিবুজ্জামানের ছোট ভাই সাজন আলী বলেন, তিনি ভাইকে মেরেছিলেন। এরপর ভাই (রকিব) বাড়ি থেকে চলে যান। আর যোগাযোগ করেননি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন