বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালা মাঠে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমন্বয় পরিবারের আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান, সদস্য মেহেদী জামান, মো. হাসানুজ্জামান, আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান, বন্ধুসভার সভাপতি আসিফ ওয়াহিদ, সাধারণ সম্পাদক রাজু আহাম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন রহমান, স্থানীয় বাসিন্দা ফজলার রহমান, আবদুর সোবাহান ব্যাপারী, তবিজন বিবি ও প্রথম আলো কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি সফি খান।

প্রথম আলো চরের পশ্চিম পাড়া থেকে লাঠিতে ভর দিয়ে কম্বল নিতে এসেছিলেন কবিরন বেওয়া। কম্বল পেয়ে বলেন, ‘ছাওয়াটা বাইরে কাম করে। কী শীত বাহে। সাথে বাতাস। কম্বল দিয়া নাতিক ধরি আরামে থাকমো।’

কাঁপতে কাঁপতে এসেছেন চরের দুই বৃদ্ধ পরিজ উদ্দিন ও আবদুল মোল্লা। দুজনের শরীরে পুরোনো পাতলা পাঞ্জাবি। কম্বল হাতে পেয়ে মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে পরিজ উদ্দিনের। বুকের সঙ্গে কম্বল চেপে ধরে কথা বলতে চাইলে জড়িয়ে আসে কণ্ঠ, চোখ ভিজে যায়। কিছুক্ষণ পর বলেন, ‘মোক কাইয়ো দেখে না বাহে। একলায় বাড়িত পড়ি থাকং। ছাওয়া গুইলা যার যার মতো বউ-ছাওয়া নিয়া থাকে। মোর দিকে একনা খেয়াল রাখেন বাবা। কম্বল কোন দিন রাই গাওত দিয়া থাকমো।’

আলো পাঠশালা মাঠ থেকে চর রসুলপুরের দূরত্ব এক কিলোমিটার। সেখান থেকে কম্বল নিতে এসেছেন রাহেলা বেগম। তাঁর স্বামী বাদশা ফকির পেশায় দিনমজুর। ঢাকার আশপাশে কৃষিকাজ করেন। কম্বল পেয়ে রাহেলা বলেন, বন্যার সময় বাড়ি ভেঙে নদে বিলীন হয়ে গেছে। চরের দক্ষিণে কোনো রকমে ঘর তুলে আছেন। মেয়েকে নিয়ে শীতের মধ্যে কাঁথা গায়ে দিয়ে কষ্ট করে থাকেন। এখন কম্বলটা দিয়ে মা-মেয়ে আরামে থাকবেন।

default-image

কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত এই চর ঘুরে দেখতে সোমবার ঢাকা থেকে এসেছিলেন একদল তরুণ। তাঁদের মধ্যে ফাহিম খান ও মো. আল-আমিন বলেন, প্রথম আলো চর নামটি গুগল ও ইউটিউবে দেখেছেন। তাই দেখতে এসেছেন। খুব ভালো লেগেছে। মানুষগুলো গরিব, কিন্তু সরল। এই শীতে কম্বলগুলো দেওয়ায় এসব মানুষের অনেক উপকার হলো।

শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল

হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪

ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা।

অথবা বিকাশে পেমেন্ট করতে পারেন: ০১৭১৩-০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন