কক্সবাজার হোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, কক্ষভাড়া সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়েও পর্যটকের সাড়া না পাওয়ার পেছনে পাঁচটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।

এগুলো হচ্ছে—১. সিলেটসহ দেশের উত্তরবঙ্গের ২০ জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি মানুষকে অর্থনৈতিক সংকটে ফেলে দিয়েছে। এখনো বন্যাকবলিত লাখো মানুষ। ওই সব অঞ্চলের মানুষ সাধারণত সৈকতে ভ্রমণে বেশি আসেন।

২. ঈদের ছুটির পরপরই শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষার আগে পরিবার নিয়ে সৈকতে ভ্রমণে আগ্রহী নয় সাধারণ মানুষ।

৩. পদ্মা সেতু চালুর পর পর্যটকের নজর কাড়ছে সুন্দরবন, কুয়াকাটা ও খুলনা অঞ্চল। আগে যাঁরা কক্সবাজার সৈকতে ভ্রমণ করেছেন, তাঁরা এবার ভ্রমণের তালিকায় যোগ করেছেন পদ্মা সেতু এবং আশপাশের এলাকাগুলোকে।

৪. করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার দ্রুত বাড়ছে। এ কারণে মানুষের মনে শঙ্কা জাগছে।

৫. বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বগামী, অর্থসংকটে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। এ কারণে ভ্রমণের খরচ সাশ্রয় করছেন তাঁরা।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, সৈকতে ভ্রমণে আসা লোকজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসেন মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। এখন কয়েক দিনের ছুটিতে সৈকতে ভ্রমণে আসার মতো টাকা অনেকের হাতে নেই। বাজার পরিস্থিতিও খারাপ। তা ছাড়া সিলেটসহ উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি, করোনার ঊর্ধ্বগতি, এসএসসি পরীক্ষা—সবকিছু মিলিয়ে এবার ঈদের ছুটিতে ৬০ থেকে ৭০ হাজারের বেশি পর্যটক পাচ্ছে না কক্সবাজার।

default-image

শুধু কক্সবাজার নয়, তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়িতেও পর্যটক নেই দাবি করে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) কক্সবাজারের সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকত ও সুন্দরবন এলাকায় বিপুল পর্যটকের সমাগম আশা করা হয়েছিল। বাস্তবে সেখানেও পর্যটকের তেমন সাড়া নেই।

কক্সবাজার শহরের কলাতলী, লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা এলাকার অন্তত ৫০টি হোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ রোববার ঈদুল আজহার প্রথম দিন প্রতিটি হোটেলে ৩ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ জন পর্যটক অবস্থান করছেন। আগামীকাল সোমবার এ সংখ্যা বাড়বে তিন গুণ। মঙ্গলবার ও বুধবার হোটেলের ৪০ শতাংশ কক্ষে অতিথি হবেন ৬০ হাজারের মতো পর্যটক। পরদিন থেকে পর্যটকের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে।

কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান প্রথম আলোকে বলেন, পর্যটক টানতে এবার পাঁচ শতাধিক হোটেল মোটেল গেস্টহাউস, কটেজে ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কক্ষ ভাড়ায় ছাড় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও সাড়া মেলেনি। তবে তারকা মানের আট থেকে নয়টি হোটেলের কক্ষভাড়া ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ অগ্রিম বুকিং হয়েছে। মাঝারি মানের পাঁচ শতাধিক হোটেলের অবস্থা খারাপ, মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন