default-image

আবদুল আজিজ লিমনের বয়স ৩২ বছর। এরই মধ্যে তিনি বিয়ে করেছেন চারটি। বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা নেওয়ার কৌশল। নানা অজুহাতে স্ত্রীকে তাঁর বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে বলেন। স্ত্রী টাকা আনতে না চাইলে ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন বাবা। এরপর বাবা-ছেলে মিলে শুরু করেন নতুন কৌশল। সব কৌশল শেষ হলে শুরু হয় ছেলের বউয়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন।

গোপালগঞ্জ পৌরসভার আরামবাগ এলাকার গাজী গোলাম মোর্তজা ও তাঁর ছেলে আবদুল আজিজ লিমনের (৩২) বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। আবদুল আজিজের তৃতীয় স্ত্রী স্বর্ণা খানম এসব অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে স্বর্ণা খানম বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

স্বর্ণার অভিযোগ ও মামলার এজাহার সূত্র জানায়, ২০১১ সালের আগস্ট মাসে আবদুল আজিজের সঙ্গে স্বর্ণা খানমের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় আজিজকে নগদ দুই লাখ টাকা ও চার ভরি সোনা যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয়। বিয়ের পর বছর শেষ হতে না হতেই ডিশ সংযোগের ব্যবসা করার কথা বলে স্বর্ণাকে তাঁর বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে বলেন আজিজ। স্বর্ণা বাবার বাড়ি থেকে দেড় লাখ টাকা আনেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই শ্বশুর গোলাম মোর্তজা স্বর্ণাকে বলেন, ‘বাড়ির কাজ করতে হবে। তোমার বাবার বাড়ি থেকে কিছু টাকা এনে দাও।’ তখন স্বর্ণা আবার বাবার বাড়ি থেকে আড়াই লাখ টাকা এনে দেন। এরপর স্বর্ণার স্বামী আজিজ আবার টাকা আনার জন্য স্ত্রীকে চাপ দেন। এবার টাকা আনার বিষয়ে স্বর্ণা আপত্তি জানালে শ্বশুর তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। আর টাকা আনতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিলে স্বর্ণাকে মারপিটও করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বর্ণা খানম দাবি করেন, ‘আমার শ্বশুর গাজী গোলাম মোর্তজা বর্তমানে গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইনসে আরআই পদে কর্মরত। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাকে সব সময় তিনি বলেন, “তোর মতো আরও কয়েকজন মেয়েকে আমার ছেলে তালাক দিয়েছে। তোকে তালাক দিলে কী হবে?” বিভিন্ন সময় আমার বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিত তারা। টাকা না আনলে ছেলেকে অন্য কোথাও বিয়ে দেবে বলে হুমকি দেয়। আমাকে বিয়ে করার আগে লিমন আরও দুটি বিয়ে করেছে এবং তাদের তালাক দিয়েছে। আমাকে বিয়ে করার পর নড়াইল জেলায় সে চতুর্থ বিয়ে করে। চতুর্থ স্ত্রীকে আমার শ্বশুর গোপনে অন্য জায়গায় বাসা ভাড়া করে দিয়েছে। আমাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন অজুহাতে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে বলত। আমি নিরুপায় হয়ে আমার মায়ের কাছ থেকে টাকা এনে দিতাম। এক মাস আগে আবার যখন টাকা দাবি করে, আমি টাকা আনতে অস্বীকার করলে আমাকে মারধর করা হয়। পরে এলাকার লোক আমাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গাজী গোলাম মোর্তজা বলেন, ‘আমার ছেলে এর আগে বিয়ে করেছে ঠিকই, আমি তাকে আমার ঘরে তুলিনি। আমি এই মেয়েকে (স্বর্ণাকে) পছন্দ করে এনেছিলাম। এরপর আমার ছেলে নাকি আরও একটা বিয়ে করেছে বলে জানতে পেরেছি। তবে স্বর্ণাকে আমরা তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে চাপ দিইনি। তাকে মারপিটও করিনি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল আমাদের ফাঁসানোর জন্য।’

এ বিষয়ে যোগাযোগের জন্য আবদুল আজিজ লিমনের মুঠোফোনে কল করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0