বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক শাহিনা আক্তার বলেন, যৌন হয়রানি সচেতনতা মাসের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে তাঁরা নানা সময়ে নারী নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতা কর্মসূচি পালন করে থাকেন।

একাধিক নারী নেত্রী জানিয়েছেন, গত শনিবার টিপ পরায় ঢাকায় পুলিশের হেনস্তা ও ইভ টিজিংয়ের শিকার হয়েছেন এক কলেজশিক্ষক। সর্বশেষ এ উদাহরণ ছাড়াও পারিবারিক অবক্ষয়, অসচেতনতাসহ নানা কারণে সমাজে নারীকে হেয় করার পাশাপাশি যৌন হয়রানি করা হচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অনেকে শৈশব-কৈশোরে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এসব প্রতিরোধে সচেতনতাই হতে পারে প্রধান সমাধান।

জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সিলেট বিভাগীয় প্রধান সৈয়দা শিরিনা আক্তার বলেন, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও ঘরে-বাইরে অনেক নারী প্রায়ই যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এটি প্রতিরোধে ব্যাপকভাবে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো দরকার। মানুষের চিন্তাভাবনার পরিবর্তন ঘটাতে পারলেই যৌন নির্যাতন ধীরে ধীরে কমে আসবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি উন্নয়ন সংস্থাগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেটের একটি সরকারি কলেজের এক ছাত্রী বলেন, ‘ঘরের বাইরে বেরোলে নানা সময়ে কিছু তরুণের অশ্লীল ও অশালীন আচরণের মুখোমুখি হতে হয়। সেদিন আমার এক বান্ধবীকে এক বখাটে কলেজ গেটের সামনে থেকে প্রায় জোর করেই পথ আটকে দিতে চেয়েছিল। পরে আমরা প্রতিরোধ করলে ওই বখাটে পালিয়ে যায়। এসব ঘটনা এড়াতে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা প্রয়োজন।’

যৌন নির্যাতনের শিকার কয়েকজন তরুণী ও নারী বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, কর্মক্ষেত্রে নারীরা যৌন নির্যাতনের শিকার হন।
চেনা ও অচেনা ব্যক্তি, সামাজিক বা ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী মহল এসব অপরাধে জড়িত থাকেন। এসব ঘটনা এড়াতে আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে সচেতনতা চালানো জরুরি। স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা এ ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে গঠিত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নাজিয়া চৌধুরী বলেন, ‘নানা সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সমাজের নানা স্তরে যৌন নির্যাতনের বিষয়টি গণমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে আমাদের চোখে পড়ে। মানুষের নেতিবাচক মনমানসিকতার বদল ঘটাতে পারলেই এ সমস্যা অনেকটা কমে যাবে। তাই সচেতনতা চালানোর বিষয়ে বেশি জোর দেওয়া উচিত।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান বলেন, ‘ঠিক এই মুহূর্তে মনে করতে পারছি না, এমন কোনো কর্মসূচি আছে কি না। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায়ই যৌন নির্যাতন ও নারীর প্রতি নিপীড়ন প্রতিরোধে নানামুখী সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন