বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার প্রতিবাদে এর আগের দিন মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শুরু হয় পাঁচ দিনব্যাপী এই ব্যতিক্রমী শিল্পযজ্ঞের। চট্টগ্রামের ১৮ বিশিষ্ট শিল্পীর দলে মং মং শো, জয়তু চাকমা, রাসেল কান্তি দাশের মতো নবীন শিল্পী যেমন আছেন, তেমন আছেন নাজলী লায়লা মনসুর, খাজা কাইয়ুম, নিলুফার চামান, সঞ্জীব দত্ত ও জাহেদ আলী চৌধুরীর মতো জ্যেষ্ঠ শিল্পীরা।

এই আয়োজনে অংশ নেওয়া শিল্পীদের সঙ্গে সিআরবির পরিচয় অনেক নিবিড়। ছাত্রাবস্থা থেকে ছবি আঁকতে তাঁরা নিয়মিত আসতেন এখানে। তাই সিআরবির এই সংকটে সাড়া না দিয়ে পারেননি তাঁরা।

আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা শিল্পী অলক রায়ও সে কথা বললেন। তিনি বলেন, ‘শিল্পীদের সঙ্গে সিআরবির একটা আত্মিক যোগাযোগ আছে। ছাত্রাবস্থা থেকে শিল্পীরা এখানে আসেন শিল্পচর্চা করতে। তাই এখানকার প্রকৃতি রক্ষার একটা দায় তাঁদের আছে। আমরা বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, হাসপাতাল করার আরও অনেক জায়গা আছে। আপনারা সেই জায়গায় হাসপাতাল করুন। সিআরবি রক্ষায় সবাই এগিয়ে আসুন।’

মাথায় ধূসর হ্যাট, হলুদ টি–শার্ট আর ট্রাউজার পরা শিল্পী খাজা কাইয়ুমকে দূর থেকে দেখে চিনতে পারা কঠিন। একটা বড় গাছের নিচে সড়কের গ্রিলের সঙ্গে ক্যানভাস রেখে ছবি আঁকছিলেন তিনি। ছবির নাম ‘ঝরা পাতার কান্না’। ক্যানভাস জুড়ে একটা বড় গাছ। সেই গাছ থেকে অনেকটা অশ্রুর মতো ঝরছে পাতা। কাছে যেতেই আলাপ জমল। তিনি বললেন, ‘সিআরবি নিয়ে চট্টগ্রামবাসী দুই মাস ধরে আন্দোলন করছে। এমন একটা স্থানে কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা হলে কী ক্ষতি, এ কথা সরকার নিশ্চয় বুঝতে পারবে। আর কেউ হয়তো সরকারকে ভুল বোঝাচ্ছে। আমরা শিল্পীরা নিজেদের দায় থেকে এখানে প্রতিবাদ করতে এসেছি।’

শিল্পী নিলুফার চামান স্থাপনা, চিত্রকর্ম আর পারফরম্যান্সের সমন্বয়ে তাঁর কাজ উপস্থাপন করেছেন। গোটা আয়োজনের সবচেয়ে দর্শনীয় তাঁর কাজের জায়গাটি। একনজর দেখলে মনে হবে, সেখানে রাজ্যের জিনিসপত্রের মেলা বসেছে। কিন্তু ভালো করে দেখলে বোঝা যাবে, একটি বয়ান সামনে রেখে তিনি তাঁর শিল্পভাষ্য তৈরি করেছেন। শিরীষতলার একটা বড় রেইনট্রিগাছের বেদিতে তিনি সারি করে সাজিয়েছেন গোল করে কাটা গাছের গুঁড়ির ফালি। ফালিগুলোর মধ্যে একটা ঝুড়িতে রাখা আছে কাঠের গুঁড়া। আর ঝুড়ির সঙ্গে সুতা দিয়ে বাঁধা একটা গ্যাসে ভরা ময়ূর আকৃতির বেলুন বাতাসে ভাসছে। সেসবের সামনে দাঁড়িয়ে শিল্পী নিলুফার চামান দর্শকদের হাতে তুলে দিচ্ছেন লাল রঙের চোঙা। সেখানে ইংরেজিতে লেখা ‘ডেঞ্জার’। তাঁর ভাষায়, সেই চোঙার বাইরের দিক হলো আজকের বাস্তবতা। যার মর্মার্থ ঠিক বিপদ নয়, বরং বিপর্যয়। সেখানে চোখ রাখলে গোল ফুটো দিয়ে কেবলই সিআরবির শ্যামল নিসর্গই দেখা যায়। তিনি সিআরবির এই বিপর্যয়কে সুন্দরে পরিণত করতে চান। সেই মন্ত্র নিয়েই এসেছেন বলে জানালেন।

দুপুরের দিকে শিল্পীদের এই আয়োজনে সংহতি জানাতে আসেন নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব ও নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানসহ অনেকে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে থাকলে শিরীষতলায় দর্শকসমাগমও বাড়ে। তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোর সবারই ছিল স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সব মিলিয়ে একটা প্রাণের মেলায় পরিণত হয় সিআরবি চত্বর।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন