রংপুরের ছুটির দিনে নিত্যপণ্যের বাজার আরও চড়া

বাজারে সব ধরনের সবজির সরবরাহ থাকলেও দাম কমছে না। আজ শুক্রবার সকালে রংপুরের সিটি বাজারে
ছবি: মঈনুল ইসলাম

রংপুরের ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। সবজির বাজারেও কোনো সুখবর নেই। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে গিয়ে ক্রেতাদের পকেট ফাঁকা হয়ে গেলেও সহজে বাজারের ব্যাগ ভরছে না।

আজ শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে রংপুরের বাজারগুলোতে স্বাভাবিকভাবে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম আবার বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের সঙ্গে বিক্রেতাদের বাগ্‌বিতণ্ডার দৃশ্য দেখা গেছে। তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা।

আজ রংপুরের বৃহত্তম বাজার সিটি বাজার ঘুরে দেখা গেল, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৫-১৯০ টাকায়। অন্যদিকে ১ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুচরা ক্রেতারা ১০০ গ্রাম, ২৫০ গ্রাম করে খোলা তেল কিনছেন। এ জন্য দাম বেশি রাখা হচ্ছে। বোতলজাত তেলের দাম কোম্পানি থেকে নির্ধারিত থাকায় সেই দামেই বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাজারে সব ধরনের সবজির সরবরাহ থাকলেও দাম কমছে না। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগেও এক কেজি বেগুন ছিল ৩৫ টাকা। সেই বেগুন আজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। ফুলকপির দাম ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা, শিমের দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, টমেটো ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, করলা ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আলুর দাম বাড়েনি। প্রকারভেদে প্রতি কেজি আলুর দাম ২০-২৫ টাকার মধ্যেই রয়েছে।

তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা
ছবি: মঈনুল ইসলাম

এদিকে প্রকারভেদে মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকায় ও সোনালি মুরগি ২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৬০০-৬৩০ টাকা। এ ছাড়া রুই মাছ ৩২০-৩৪০ টাকা, কাতল ৩০০-৩২০ টাকা, প্রকারভেদে ছোট মাছ ৬০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সিটি বাজারে কেনাকাটা করতে আসা শহরের নিউ জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দা শমসের মিয়া বলেন, প্রতিদিনই বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। বাজার করতে এসে সব টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। সংসারের খরচ চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।

তবে সিটি বাজারের বিক্রেতারা বলেছেন, বাজারে সবজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে খুচরা বাজারে দাম বেড়ে গেছে। এ ছাড়া কয়েক বিক্রেতা বলেন, রংপুরের উৎপাদিত সবজি ঢাকায় চলে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে সবজির দামে প্রভাব পড়েছে।

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, স্থানীয় বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি ও বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিগগিরই ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসন বৈঠকে বসবে বলে জানান তিনি।