বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ভবতোষ সরকার জানান, ৬০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী শিঙাড়া হাউস এখনো সেই আগের মতোই রয়েছে। তেমন কোনো চাকচিক্য নেই। একসময় ২৫ পয়সায় চারটি শিঙাড়া পাওয়া যেত। কালের বিবর্তনে সেই দাম বেড়ে এখন প্রতিটি শিঙাড়া তিন টাকায় বিক্রি হয়। সঙ্গে এক টাকার চাটনি। আগে অবশ্য চাটনি বিনা মূল্যেই দেওয়া হতো।

ছোট্ট ছোট্ট শিঙাড়ার সঙ্গে যে চাটনি দেওয়া হয়, তা খুবই সুস্বাদু। আমার ভালোই লেগেছে। অনেক নাম শুনেছি এই শিঙাড়া হাইসের। আজ সশরীর এসে দেখলাম। ছোট্ট দোকান হলেও শিঙাড়া মান–গুণে বেশ ভালো।
বিক্রম কে দোরাইস্বামী, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার
default-image

রংপুর শহরের ব্যবসাপ্রধান এলাকা জাহাজ কোম্পানি মোড়ের কাছেই বেতপট্টি ও কালীবাড়ি এলাকার মধ্যে সরু গলি হাঁড়িপট্টি। সেখানে ঢুকলেই প্রাচীন ঐতিহ্যের ছোঁয়া লাগে গায়ে। এই গলির ঘ্রাণেই মিশে আছে পুরোনো সময়। এই রোডেই এই শিঙাড়া হাউস। সেই আদিকাল থেকে একইভাবে দোকানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। স্বাধীনতার আগে এ শিঙাড়া হাউস শহরের বিশিষ্টজনদের নিয়মিত আড্ডার স্থান ছিল। রাজনৈতিক ব্যক্তিরাসহ শহরের গুণীজনেরা এখানে বসতেন।

শিঙাড়া হাউসের শিঙাড়াগুলো এতই বিখ্যাত ও সুস্বাদু যে এতে নিয়মিত ভিড় লেগেই থাকে। দোকানটির পরিসর এতটাই ছোট যে বিকলের পর এখানে চেয়ার-টেবিল পাওয়া রীতিমতো যুদ্ধের ব্যাপার। মিনিট পনেরো-আধঘণ্টা দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর টেবিল মিললেই মেলে মচমচে শিঙাড়া আর সুস্বাদু চাটনির দেখা। দূরদূরান্তের লোকজন রংপুরে কাজে বা কেনাকাটায় এলে শিঙাড়া হাউসে আসতে ভুলতেন না। রংপুরের বাসিন্দারা যাঁরা এখন জীবনের প্রয়োজনে জেলার বাইরে দেশ-বিদেশে বসবাস করেন, তাঁরা রংপুরে এলে একবার এই দোকানে আসা চাই-ই চাই। বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসে শিঙাড়া হাউসে বসে খাওয়া ঐতিহ্যের পরম্পরা মেনে চলে আসছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন