সিটি বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী শরিফ মিয়া বলেন, মানুষ আস্তে আস্তে ঈদের কেনাকাটা শুরু করেছে। এরপরও দাম বাড়েনি, বরং কমেছে। বাজারে মুরগির আমদানিও বেড়েছে। এর ফলে দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। গত সপ্তাহের চেয়ে ১০ টাকা কমে ব্রয়লার ও পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে গড়ে ১০ টাকা কমেছে। খুচরা পর্যায়ে টমেটো কেজিপ্রতি ৫ টাকা কমে ২০ টাকা, গাজর ১০ টাকা কমে ২৫ টাকা, করলা ১০ টাকা কমে ৫০ টাকা, প্রকারভেদে বেগুন ৫ টাকা কমে ৩৫ টাকা, শিম ১০ টাকা কমে ৪০ টাকা, শসা ২০ টাকা কমে ৪০ টাকা, পেঁপে ৫ টাকা কমে ২৫ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া দাম অপরিবর্তিত আছে কিছু পণ্যের। এসব পণ্যের মধ্যে লেবু প্রতি হালি ২০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৮০ টাকা, শুকনা মরিচ ৩৫০ টাকা, প্রতিটি বাঁধাকপি ২০ টাকা, লাউ ৪০ টাকা, কাঁচকলা হালি ২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা, বরবটি ৪৫ টাকা, পটল ৫০ টাকা, শজনে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেই সঙ্গে দেশি পেঁয়াজ ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আসা নতুন সবজি চালকুমড়া আকারভেদে ৩৫-৪০ টাকা এবং ঝিঙে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সিটি বাজারের সবজি বিক্রেতা আলাউল ইসলাম বলেন, বা‌জারে এখন সবজির আমদানি বেড়েছে। রমজানের শুরুতে বাজারে সবজির দাম নিয়ে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল, তা এখন নেই।

নিত্যপণ্যের মধ্যে বাজারে আদা ও রসুনের দাম বেড়েছে। ৮০ টাকা কেজির আদা ৪০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা। আর ৩৫ টাকার রসুন হয়েছে ৮০ টাকা। এ দুটির দাম কেজিতে ৪০ টাকা করে বেড়েছে। বাজারে আলু আগের মতোই ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা শহরের রাধাবল্লভ এলাকার বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক বলেন, বেশ কয়েক দিন থেকে সবজি, মুরগিসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে।
এদিকে চিনি, ডাল, আটা ও ময়দার দাম অপরিবর্তিত আছে। খোলা চিনি ৮০ টাকা কেজি এবং প্যাকেট চিনি ৮৫ টাকা, মসুর ডাল মাঝারি ১০০ টাকা কেজি, চিকন ১৩০ টাকা, আটা প্যাকেট ৪০ টাকা ও খোলা ৩৬-৩৮ টাকা কেজি এবং ময়দা প্যাকেট ৫৫-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে সব ধরনের মাছের দর কেজিপ্রতি ১৫-২০ টাকা বেড়েছে।

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সার্বক্ষণিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ঈদের সর্বশেষ কেনাকাটা পর্যন্ত এভাবেই বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন