default-image

রংপুরের বদরগঞ্জের দামোদরপুর ইউনিয়নে নদী খননের পর স্তূপ করে রাখা সরকারি বালু অবৈধভাবে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতি ট্রাক বালু বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকায়। এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে বালু বিক্রি করা হচ্ছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভার ভাংড়ীর ঘাট থেকে পাঠানের হাট সেতু পর্যন্ত ১১ কিলোমিটারব্যাপী চিকলী নদীর তলদেশ খননকাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৮ মাস আগে। খনন করা বালু স্তূপ করে রাখা হয় নদীপাড়ের ওপরের জমিতে। খননের সময় এলাকায় মাইকিং করে বলা হয়, চিকলী নদী খননের স্তূপ করা বালু সরকারি সম্পদ। এই বালু কেউ বিক্রি কিংবা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন চম্পাতলী ও কদমতলী নামক এলাকায় খনন করা চিকলী নদীর বালু দামোদরপুর ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে ম্যানেজ করে বালু ব্যবসায়ীরা তা বিক্রি করছেন। নদী খননের অন্তত ২০ লাখ টাকার সরকারি বালু রয়েছে। দরপত্রের মাধ্যমে বালু বিক্রি করলে সরকার রাজস্ব পেত।

বিজ্ঞাপন

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। এক সপ্তাহ আগে আশরাফুল ও এনামুলের বিরুদ্ধে বালু বিক্রির অভিযোগ পেয়ে আমার অফিস সহায়ক আবদুর রাজ্জাককে সেখানে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে টাকা নিয়ে থাকলে দায় রাজ্জাকের।’

বালু ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম বলেন, বালুর ব্যবসা করলে কাউকে না কাউকে ম্যানেজ করতেই হয়। তবে ভূমি কর্মকর্তাকে টাকা দেওয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে নদীর প্রায় ৫০ লাখ টাকার বালু বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা। এখনো অনেক বালুর স্তূপ রয়েছে।

রংপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, ‘ওই নদীর খননকাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। এরই মধ্যে আমার বদলি হয়েছে। ওই বালু রক্ষা ও দরপত্রের বিক্রি করার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের। তবে কিছুটা দায় পাউবোরও আছে। সেসব বালু টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা নিলে সরকার অনেক টাকা রাজস্ব পেত।

বিজ্ঞাপন

বদরগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, নদী খননের বালু অবৈধভাবে পরিবহন করার সময় কয়েকটি ট্রাক আটক করা হয়েছিল। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আনোয়ার হোসেন নামের এক ট্রাকচালক বলেন, পুলিশ আটক করে বালু পরিবহনকারী ট্রাক। জরিমানা করা হয় ট্রাকের চালকের। বালু ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন প্রকাশ্যে ৩০-৪০ হাজার টাকার বালু বিক্রি করলেও তাঁরা থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান বলেন, বালু বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্তূপ করা বালু দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সময়ের ব্যাপার। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে পত্র পাঠানো হচ্ছে। সেখান থেকে নির্দেশনা পেলেই বালু বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0