রংপুরে ছুটির দিনে টিকাকেন্দ্র খোলা থাকলেও ভিড় নেই

রংপুরে ছুটির দিনে টিকাদানকেন্দ্র খোলা থাকলেও টিকাপ্রত্যাশীদের চাপ ছিল না
ছবি: মঈনুল ইসলাম

রংপুরে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে করোনার টিকাদানকেন্দ্র খোলা থাকলেও প্রথম ডোজের টিকা নিতে মানুষের তেমন ভিড় নেই। প্রচারণার অভাবে স্থানীয় লোকজনের অনেকেই জানেন না আজ শুক্রবারও টিকা দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে টিকাকেন্দ্রে মানুষের চাপ নেই বলে দাবি করছেন টিকাদান–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঘোষণা দেয়, ছুটির দিনেও আজ সারা দেশে করোনার টিকাদানকেন্দ্র খোলা থাকবে।

আজ সকালে সিটি করপোরেশন টিকাকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, একজন-দুজন করে টিকাপ্রত্যাশী মানুষ প্রথম ডোজের টিকা নিতে আসছেন। ছুটির দিন ছাড়াও কয়েক দিন ধরে রংপুরের টিকাকেন্দ্রগুলোতে মানুষের চাপ কমতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তাজ প্রথম আলোকে বলেন, ছুটির দিন হওয়ায় মানুষের উপস্থিতি কম। আবার ছুটির দিনে টিকাদানের খবরটি অনেক মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। এ ছাড়া ইতিমধ্যে নগরীর অধিকাংশ মানুষ প্রথম ডোজের টিকার আওতায় এসেছেন। সব মিলিয়ে আজ টিকাকেন্দ্রে তেমন ভিড় নেই।

সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নগরের ২০৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় মাত্র ৬টি টিকাকেন্দ্র থাকায় দূর-দূরান্তের লোকজন টিকাকেন্দ্রে আসতে ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। তাই প্রথম ডোজের টিকা থেকে কেউ যেন বাদ না পড়েন, সে জন্য প্রতিদিন সিটি করপোরেশনের একাধিক স্থানে স্বাস্থ্যকর্মীরা ভ্রাম্যমাণ টিকাদান কার্যক্রম চালিয়েছেন। এই কার্যক্রম এখনো অব্যাহত আছে। এতে অধিকাংশ মানুষ ইতিমধ্যে করোনার প্রথম ডোজ টিকাদানের আওতায় এসেছেন বলে দাবি করছে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সিটি করপোরেশনে এখন পর্যন্ত প্রথম ডোজের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩০ জনের। সেখানে টিকা দেওয়া হয়েছে ৪ লাখ ৯৮ হাজার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে আরও ৪০ শতাংশ টিকা বেশি দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে ৪ লাখ ৩৭ হাজার।

এ প্রসঙ্গে কামরুজ্জামান বলেন, সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যকর্মীরা পাড়া-মহল্লাসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে টিকা দিচ্ছেন। এক মাসের বেশি সময় ধরে এই কার্যক্রম চলছে। এতে সাড়াও পাওয়া গেছে। ফলে সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা ছাড়াও বাইরের জেলার বাসিন্দারাও যাঁরা সিটিতে বসবাস করছেন, তাঁরাও টিকার আওতায় এসেছেন। এতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে।