বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বাজারে কেনাকাটা করতে আসা প্রায় সবাই আশপাশের বিভিন্ন মহল্লার বাসিন্দা। মূলত কিছুটা কম দামে পণ্য কিনতেই মানুষ এখানে বাজার করতে আসেন। আবার অনেকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এখান থেকে বাজার করে নিয়ে যান।

এ বাজারের নিয়মিত ক্রেতা মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, এখানে প্রকারভেদে সবজি গড়ে পাঁচ টাকা কম মূল্যে পাওয়া যায়। আলু, করলাসহ ছয় ধরনের সবজি কিনলে সব মিলিয়ে ৩০ টাকা কম পড়ে। ওই টাকা দিয়ে খোলাবাজার থেকে এক কেজি আটা কেনা যায়।

শহরের মুলাটোল এলাকার বাসিন্দা সোনা মিয়া নবাবগঞ্জ বাজারে একটি দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। সারাদিন দোকানে কাজ করার কারণে দিনের বেলা বাজার করা সম্ভব হয় না। তাই দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় রাতে এখান থেকে বাজার করেন তিনি। সোনা মিয়া বলেন, ‘রাতের এ বাজারে কোনো ঠকবাজি হয় না। দামও কম। সবজিও টাটকা পাওয়া যায়।’

default-image

গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন পেশার মানুষ এখান থেকে সবজি কিনছেন। অনেকেই সড়কের পাশে বাজার দেখে যাত্রা থামিয়ে কেনাকাটা করছেন। বিক্রেতারা জানান, পবিত্র রমজান মাসে প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এই বাজারে তুলনামূলক কম দামে পণ্য পাওয়া যায় বলে এখানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে।

প্রায় ১২ বছর ধরে এ বাজারে সবজি বিক্রি করছেন সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করিণী ইউনিয়নের পালিচড়া এলাকার আজহারুল ইসরাম। তিনি বলেন, ‘গৃহস্তের জমি থাকি টাটকা শাক তুলে এনে দিনোত দিনোত পাড়ামহল্লায় ঘুরে বেড়াই। আর আর রাইতোত এই রাস্তার পাশোত আসিয়া শাক বিক্রি করছি। প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকা বিক্রি হয়।’

আশরাফুল ইসলাম নামের আরেক বিক্রেতা বলেন, ‘সিটি বাজারোত ব্যবসা করার মতো হামার পুঁজি নাই। আর তাই এটে বসা। এটে বসি ব্যবসা করতে কোনো টোলও দেওয়া লাগে না, যা মাল আনি, তা শেষ হয়া যায়।’

বিক্রেতারা জানান, রংপুর শহরের আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে চাষিদের উৎপাদিত সবজি তাঁরা সংগ্রহ করে এনে এ বাজারে বিক্রি করেন। পাশাপাশি নগরের সিটি বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছ থেকেও তাঁরা সবজি কিনে এখানে বিক্রি করেন।

নগরের সিটি বাজারের সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, রাতের এ বাজারে প্রকারভেদে সবজি গড়ে ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। লাল ও পুঁইশাকের আঁটি সিটি বাজারের তুলনায় থেকে ৫ টাকা কমে ১৫ টাকা, ৬০ টাকার বেগুন ১০ টাকা কমে ৫০ টাকা, ২০ টাকার একফালি মিষ্টিকুমড়া ১০ টাকায়, ৮০ টাকার সজনে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন