হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগ সূত্র জানায়, ১৮টি ডায়ালাইসিস যন্ত্রের মধ্যে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ করে ১৩টি যন্ত্র বিকল হয়ে যায়। ফলে দিনভর রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে যন্ত্র মেরামত করার পর বিকেল পাঁচটায় রোগীদের ডায়ালাইসিস শুরু হয়।

এ বিষয়ে হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের যন্ত্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত টেকনিশিয়ান মোখলেছুর রহমান বলেন, সকালে যে চারজন রোগীর ডায়ালাইসিস করার সময় যন্ত্র নষ্ট হয়েছিলে, বিকেল যন্ত্র ঠিক করার পর তাঁদের ডায়ালাইসিস শেষ করা হয়।

কিডনি ইউনিট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ৩২ জন রোগীর ডায়ালাইসিস হওয়ার কথা। এর বাইরে আরও ১০-১২ জন রোগী সিরিয়ালে ছিলেন। এসব রোগীরা হাসপাতালে এসে থাকলে রাতের মধ্যেই তাঁদের ডায়ালাইসিস করা হবে।

নীলফামারীর সৈয়দপুরের রোগী রবিউল ইসলাম (৪০) ডায়ালাইসিস করতে বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে হাসপাতালে আসেন। তাঁর ডায়ালাইসিস শুরু হওয়ার কথা ছিল সকালে। কিন্তু যন্ত্র নষ্ট হওয়ার কারণে তা আর হয়নি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে সন্ধ্যায় তাঁর ডায়ালাইসিস শুরু হয়। তিনি বলেন, এমনিতেই অনেক কষ্ট। তার ওপর যন্ত্র খারাপ হওয়ায় বসে থাকা আরও কষ্টের।

এ বিষয়ে নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ১৮টি ডায়ালাইসিস যন্ত্রের ত্রুটি প্রায় দিনই থাকে। একজন টেকনিশিয়ান ত্রুটি দূর করতে সার্বক্ষণিক কাজ করে থাকেন। যন্ত্রগুলো অনেক দিনের পুরোনো হওয়ায় বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রতিদিন প্রতিটি যন্ত্রে দুই থেকে তিনজন রোগীর ডায়ালাইসিস হয়ে থাকে। যন্ত্র বিকল হলে তাঁরা হাসপাতালের পরিচালককে বিষয়টি জানান।

হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগে কিডনি রোগীদের রোগ নির্ণয়ের ১৮টি ডায়ালাইসিস যন্ত্রের মধ্যে ১০টি যন্ত্র ২০১০ সালের। আর বাকি আটটি যন্ত্র ২০১৬ সালের। এসব যন্ত্রের ওয়ারেন্টি তিন বছরও পেরিয়ে গেছে। এখন মেরামত করে চলছে।

টেকনিশিয়ান মাসুদ রানা বলেন, ‘এসব যন্ত্র তো অনেক পুরোনো, প্রায়ই নষ্ট হয়। ঢাকায় জানানো হয়েছে। কারণ, এখানে এসব ঠিক করার অভিজ্ঞ লোক নেই। এরপরও আমরা টুকটাক চেষ্টা করে যাই।’

কিডনি ইউনিট সূত্রে জানা যায়, নতুন রোগীর প্রথম দিন ডায়ালাইসিস করতে খরচ পড়ে সাত হাজার টাকা। এরপর প্রতি ডায়ালাইসিসে এক হাজার টাকা খরচ পড়ে। এ ছাড়া ছয় মাসের প্যাকেজ নেওয়া রোগীদের কাছ থেকে ৪৮টি ডায়ালাইসিসের জন্য একসঙ্গে নেওয়া হয় ২০ হাজার টাকা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন