বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মাঠজুড়ে লাভবার্ড, কোকাটেল, বাজরিগার, ফিঞ্চ, নানা প্রজাতির পায়রা, গ্রে প্যারোট, জাভা, বিদেশি ঘুঘুর ডাক। পাখিপ্রেমীদের ভিড়ও অনেক। খুনসুটিতে ব্যস্ত থাকা কোকাটেল ঘিরে আগ্রহ সবচেয়ে বেশি দর্শকদের। ছোট্ট মিমহা মুজিব মায়ের সঙ্গে পাখি দেখতে এসেছে। মিমহা বলল, ওই যে টোপর মাথায় সাদা-হলুদ পাখি, ওটা ভালো লেগেছে। ওটা খুব দুষ্টু। মিমহার মা ফেরদৌস আরা বলেন, তিনি নিজেও পাখি পোষেন। এখানে নতুন নতুন বিদেশি পাখির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ, তাই মেয়েকে নিয়ে এসেছেন।

৫০ প্রজাতির পাঁচ শতাধিক পাখির প্রদর্শনী হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি আছে কোকাটেল, ফিঞ্চ ও বাজরিগার। এ ছাড়া আছে বিভিন্ন প্রজাতির পায়রা। প্রতিটি খাঁচার সামনেই স্বেচ্ছাসেবক আছেন। পাখি দেখভালসহ দর্শনার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন তাঁরা।

মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান অনেক বছর ধরেই পাখি পোষেন। সংগ্রহে ২০০ পাখি আছে। তিনিই এনেছেন প্রদর্শনীর কোকাটেলগুলো। মোহাম্মদ সাব্বির এনেছেন কয়েক জোড়া লাভবার্ড, বিরল গ্রে প্যারোট। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা পাঁচ বছর বয়সী ‘ভিক্টোরিয়া ক্রাউন পিজিয়ন’ নামে দুর্লভ একটি কবুতরের জাত দেখালেন মো. আসাদুজ্জামান।

মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘জেলার অনেক তরুণ-যুবক বিদেশি পাখি পালন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পোষা পাখির বাজার সৃষ্টি করার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। আমরা মনে করছি, পাখি পালন করে বেকার যুবকেরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন।’

ঠাকুরগাঁও ‘বার্ড সোসাইটির’ সভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, ‘প্রথমবারের মতো পাখির মেলা করছি। পাখি পালন করে দেশের বেকার যুবকেরা যে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা সেই বার্তাটি ছড়িয়ে দিতে চেয়েছি।’

অ্যাভিয়েন কমিউনিটি অব বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা ফেরদৌস গালিব বলেন, ‘পাখি পোষা মানুষের চিরন্তন শখ। কিন্তু আমরা চাই বনের পাখি বনেই থাকুক। যে পাখি খাঁচায় জন্মে ও বড় হয়, আমরা সেগুলোই পুষি। এ জেলা পাখালদের (যাঁরা পাখি পালন করেন) জন্য নতুন জায়গা। ঠাকুরগাঁওয়ে এমন আয়োজন প্রথম হচ্ছে। পাখি পালন এখন একটি সেক্টরে রূপ নিয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন